ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

দাড়ি পুরুষের সৌন্দর্যের প্রতীক

মুহাম্মদ নাহিদ হোসেন নাঈম
দাড়ি পুরুষের সৌন্দর্যের প্রতীক

দাড়ি আল্লাহর একটি মহান ও বড় নেয়ামত। এটি শিআরুল ইসলাম তথা ইসলামের চিহ্ন। দাড়ি মানেই পুরুষত্ব, এটি পুরুষত্বের পরিচয় ও সৌন্দর্যের পরিচায়ক। এটি মহান আল্লাহর প্রকাশ্য নিদর্শনগুলোর অন্যতম নিদর্শন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে সম্মান করলে এটা তার হৃদয়ের তাকওয়া থেকে উদ্ভূত বা আল্লাহ সচেতনতার লক্ষণ।’ (সুরা আল-হাজ : ৩২)। দাড়ি রাখার মাধ্যমে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া যায়। পুরুষের জন্য দাড়ি রাখা ওয়াজিব। দাড়ি শুধু আমাদের নবীর নয়, সব নবীরই সুন্নত।

আরবি ভাষায় দাড়িকে বলা হয় লিহইয়া বা লাহয়া। এর আভিধানিক অর্থ হলো থুতনিসহ মুখের দুই পাশের ওই হাড়, যার ওপর দাঁতগুলো অবস্থিত। প্রাপ্ত বয়সে ওই হাড়ের ওপর যে লোম বা কেশ গজায়, ওই লোম বা কেশগুলোকেই হাড়ের নামকরণে লিহইয়া বলা হয়।

শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-উসায়মীন (রহ.) বলেন, নবী-রাসুলদের সুন্নত ও পথনির্দেশনাই হলো দাড়ি রাখা। সব নবীর দাড়ি ছিল। কেউই শেভ করেননি, দাড়িতে স্টাইল করেননি। মহান আল্লাহ নবী হারুন (আ.) এর প্রসঙ্গ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, যখন হারুন (আ.) তার ভাই মুসা (আ.)-কে বলেন- ‘হারুন বললেন : হে আমার সহোদর! আমার দাড়ি ও চুল ধরবেন না। আমি আশঙ্কা করেছিলাম যে, আপনি বলবেন : তুমি বনি ইসরাইলদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছ ও আমার কথা শোনায় যত্নবান হওনি।’ (সুরা ত্বাহা : ৯৪)।

আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনের বহু আয়াতে আমাদের আদেশ করেছেন যেন আমরা রাসুলের (সা.) নির্দেশ মেনে চলি। তাই রাসুল (সা.) যেসব বিষয়ে আমাদের আদেশ ও নিষেধ করেছেন তা মেনে চলাও আমাদের জন্য ফরজ বা ওয়াজিব। কোরআনে কারিমে এরশাদ হচ্ছে- ‘রাসুলের আহ্বানকে তোমরা তোমাদের একে অপরকে আহ্বানের মতো গণ্য করো না। আল্লাহ তাদেরকে জানেন, যারা তোমাদের মধ্যে চুপিসারে সরে পড়ে। অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদের গ্রাস করবে।’ (সুরা নুর : ৬৩)।

‘আর তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ ও রাসুলের, যাতে তোমাদের ওপর রহমত করা হয়।’ (সুরা আলে-ইমরান : ১৩২)। ‘বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহও তোমাদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান : ৩১)। ‘হে ঈমানদাররা, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ মান্য কর এবং শোনার পর তা থেকে বিমুখ হয়ো না।’ (সুরা আনফাল : ২০)। ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোনো কাজের আদেশ করলে কোনো ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়।’ (সুরা আহজাব : ৩৬)।

‘বলুন, আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসুলের আনুগত্য কর। অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার ওপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্য সে দায়ী এবং তোমাদের ওপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্য তোমরা দায়ী। তোমরা যদি তাঁর আনুগত্য কর, তবে সৎ পথ পাবে। রাসুলের দায়িত্ব তো শুধু সুস্পষ্টরূপে পৌঁছে দেওয়া।’ (আন-নুর : ৫৪)। ‘রাসুল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।’ (সুরা হাশর : ৭)।

তাছাড়া দাড়ির ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরাম এবং সালাফে সালেহিন তথা আমাদের নেককার উত্তরসূরিরাও আমাদের সঠিক পথনির্দেশনা দিয়ে গেছেন। তাদের কেউই দাড়ি শেভ করতেন না। সাহাবি কাইস ইবন সা’দ (রা.)-এর দাড়ি ওঠেনি। তার কওম আনসাররা বলত- বীরত্ব ও সাহসিকতায় কতই না সেরা মানুষ হলেন আমাদের নেতা কাইস ইবন সা’দ; কিন্তু কষ্টের বিষয় হলো, তার কোনো দাড়ি নেই। দিরহাম দিয়ে যদি দাড়ি কেনা যেত, তাহলে আমরা তার জন্য দাড়ি কিনতাম!

তদ্রূপ তাবেই আহনাফ ইবন কায়েসেরও কোনো দাড়ি ছিল না, তিনিও তার গোত্রের নেতা ছিলেন। তার গোত্রের লোকেরা বলতেন- দাড়ি কিনতে ২০ হাজার দিরহাম লাগলেও, তা দিয়ে তার জন্য দাড়ি কিনতাম। এটা এ জন্য যে, দাড়ি তাদের কাছে সৌন্দর্য ও পুরুষত্ব এবং পরিপূর্ণ ব্যক্তিত্বের প্রতীক ছিল। তাদের গর্দান চলে যাক কোনো সমস্যা নেই; কিন্তু দাড়ি যেন চলে না যায়, এ ব্যাপারে তারা আপস করতেন না।

আল্লাহতায়ালাই বেশি ভালো জানেন যে, পুরুষের জন্য কোনটি বেশি উপযোগী? মহান আল্লাহ চাইলে পুরুষদের সৃষ্টি করতে পারতেন দাড়ি ব্যতীত। কিন্তু তিনি দাড়ি দিয়ে পুরুষকে নারী থেকে স্বতন্ত্র (আলাদা) করে দিয়েছেন। তিনি পুরুষের জন্য দাড়ি চয়েস করেছেন, এর দ্বারা তাকে সজ্জিত করেছেন। আল্লাহ যা চয়েস করেছেন, কোনো জ্ঞানী ব্যক্তি কি সেটাকে অপছন্দ করতে পারে? কখনোই না। আল্লাহ বেশি জানেন, নাকি বান্দা বেশি জানেন? কারণ, মানুষের জ্ঞানের পরিধি সীমাবদ্ধ। আল্লাহতায়ালা তাই বলেন, ‘তোমরা কি বেশি জান, না আল্লাহ?’ (সুরা আল-বাকারা : ১৪০)।

দাড়ি রাখা যে ওয়াজিব বা আবশ্যক; তা এড়িয়ে যাওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। কারণ পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন- ‘আল্লাহ ও তার রাসুল কোনো কাজের আদেশ করলে কোনো ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী সে বিষয়ে না বলার ক্ষমতা নেই, যে আল্লাহ ও তার রাসুলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়।’ (সুরা আহজাব : ৩৬)। অন্য আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যে রাসুলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যারা মুখ ফিরিয়ে নেয় আমরা আপনাকে তাদের ওপর রক্ষক নিযুক্ত করিনি।’ (সুরা আন-নিসা : ৮০)। আল্লাহতায়ালা আমাদের দাড়ি রাখার মাধ্যমে প্রিয় নবী (সা.) এর নির্দেশনা মেনে চলার তৌফিক দান করুন।

লেখক : শিক্ষার্থী, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত