ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বিবাহের অলিমা করা সুন্নত

আবরার নাঈম
বিবাহের অলিমা করা সুন্নত

অলিমা একটি আরবি শব্দ। যার বাংলা অর্থ : একত্রিত করা বা মেলানো। বিবাহ-পরবর্তী বরপক্ষের ভোজ অনুষ্ঠানকে অলিমা বলে হয়। অলিমা করা

প্রিয় নবী (সা.) এর একটি সুন্নত। তিনিও তাঁর স্ত্রীদের বিবাহের পর অলিমা করে সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-কে খাইয়েছেন। তাদেরও বিবাহের পর সাধ্যানুযায়ী অলিম করার নির্দেশ দিয়েছেন। মুসলিম সমাজে এই সুন্নত আজও চলমান আছে।

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসুল (সা.) হজরত জয়নাব বিনতে জাহাশ (রা.)-এর বিবাহে যে পরিমাণ অলিমার আয়োজন করেন, অন্য কোনো স্ত্রীর বিবাহে সে পরিমাণ করেননি। তিনি এক বকরি দ্বারা অলিমা করেন। (বোখারি, মুসলিম, মিশকাত)। অপর এক হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুল (সা.) হজরত জয়নব বিনতে জাহাশ (রা.)-এর বিবাহের পর অলিমার আয়োজন করেন, তিনি লোকদের রুটি ও গোশত দ্বারা পরিতৃপ্ত করেন। (বোখারি, মিশকাত)। ভিন্ন আরেকটি হাদিস হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) হজরত সাফিয়্যা (রা.)-কে মুক্ত করে বিবাহ করেন এবং এ মুক্তিদানকে মোহর হিসেবে গণ্য করেন এবং হায়স (খেজুর, পনির ও ঘি সহযোগে প্রস্তুত) নামক খাদ্য দ্বারা অলিমা করেন। (বোখারি, মুসলিম, মিশকাত)।

বিবাহের দু-একদিন পর বরের বাড়িতে ভোজের আয়োজন করা এবং সেখানে ধনী-গরিব সর্বশ্রেণির মানুষকেই দাওয়াত করে যথাসাধ্য মেহমানদারি করা; এটাই হচ্ছে অলিমা। কিন্তু আমাদের সমাজের অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, শুধু ধনীদের দাওয়াত দিয়ে তৃপ্তি সহকারে খাওয়ানো হয় আর গরিব-অসহায়দের দাওয়াতই দেওয়া হয় না। যার ফলে তারা ভীষণ কষ্ট পায়। পাশাপাশি ছিন্ন হয় সামাজিক বন্ধন।

অথচ এমনটা করা সম্পূর্ণ অনুচিত। হাদিসে এমন অলিমার খাবারকে অতি নিকৃষ্ট খাবার বলে ব্যক্ত করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ওই অলিমার খানা অতি নিকৃষ্ট, যে খানায় শুধু ধনীদের দাওয়াত করা হয় এবং দরিদ্রদের ছেড়ে দেওয়া হয় আর যে বিনা ওজরে দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করল, সে আল্লাহ ও রাসুলের নাফরমানি করল। (বোখারি, মুসলিম, মিশকাত)।

উপরিউক্ত হাদিসের আলোকে একথা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, প্রথমত বিবাহের পরে অলিমা করা সুন্নত এবং সেটা অবশ্যই তার সাধ্য অনুযায়ী হওয়া চাই। দ্বিতীয়ত ধনী-গরিব সর্বশ্রেণির মানুষকেই দাওয়াত করা এবং যথাযথ আপ্যায়ন করা। আল্লাহতায়ালা আমাদের দ্বীনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কোরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক চলার তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষার্থী-জামিয়া আরাবিয়া মাখযানুল উলুম, ময়মনসিংহ, সদর

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত