নারীর সম্মানের প্রতীক
ফয়জুল্লাহ রিয়াদ
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলাম মানবজীবনের প্রতিটি স্তরে শালীনতা, পরিমিতিবোধ ও আত্মমর্যাদার শিক্ষা দিয়েছে। বিশেষত নারীজীবনে পর্দা, লজ্জাশীলতা ও নিজেদের ইজ্জত-আব্রু হেফাজতের বিষয়টিকে ইসলাম অনন্য মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। এ ক্ষেত্রে নেকাব মুসলিম নারীদের জন্য শালীনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। পাশাপাশি তা আত্মসম্মান, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আল্লাহভীতির বহিঃপ্রকাশ। একজন মুসলিম নারী যখন নেকাব পরেন, তখন তিনি নিজের স্বাধীন ইচ্ছায় আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেন। আর স্রষ্টার আনুগত্যে আত্মসমর্পণই তো প্রকৃত স্বাধীনতা। নেকাব নারীকে পুরুষের কুদৃষ্টি থেকে যেমন হেফাজত করে, তেমন তার অন্তরকেও অহংকার ও আত্মপ্রদর্শনের প্রবণতা থেকে সংযত রাখে।
নারীর সুরক্ষায় নেকাব : আধুনিক সমাজে নারীকে প্রায়ই পণ্য কিংবা প্রদর্শনীর বস্তুতে পরিণত করা হয়। অথচ নারী কোনো পণ্য নয়। কোনো সভ্য সমাজ নারীদের পণ্য বানিয়ে নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে না। একজন সভ্য নারী কখনোই নিজের ইজ্জত-সম্মান বিসর্জন কিংবা সৌন্দর্য প্রদর্শনের মাধ্যমে পুরুষদের আকৃষ্ট করে পরিচিত হতে চায় না। সে তার চরিত্র, বুদ্ধিমত্তা, লজ্জাশীলতা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে পরিচিত হতে চায়। নেকাব মূলত এমন একটি পর্দাবিধান, যা নারীর মুখমণ্ডল আচ্ছাদিত করার মাধ্যমে তাকে পরপুরুষের লোলুপ দৃষ্টি ও রাস্তাঘাটে বখাটেদের উৎপাত থেকে সুরক্ষা দেয়।
নেকাব যে উদ্দেশ্যের ধারক : কোরআন-সুন্নাহে নারীর পর্দা ও শালীন আচরণের প্রতি জোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য নারীর মর্যাদা রক্ষা ও সমাজে তাকে নিরাপদ অবস্থানে রাখা। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মোমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের জিলবাবের একাংশ নিজেদের (মুখের) ওপর নামিয়ে দেয়।’ (সুরা আহজাব : ৫৯)। ‘জিলবাব’ অর্থ এমন বড় চাদর, যা দ্বারা নারীদের মুখমণ্ডল ও পূর্ণ দেহ আবৃত করা যায়। (আহকামুল কোরআন : ১৪/২৪৩)। নারীদের মুখমণ্ডল যেহেতু সমস্ত সৌন্দর্যের কেন্দ্রবিন্দু, তাই তা আবৃত রাখা অত্যন্ত জরুরি। নেকাব এ উদ্দেশ্যেরই বাস্তব রূপ।
