ভোটকেন্দ্রের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় নির্দেশনা

আগামীকাল (১২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখতে ভোটারদের নির্বাচনি নির্দেশনাবলি মেনে চলা জরুরি। নারী ভোটারদের জন্য বিশেষ সুবিধা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে একটি উৎসবমুখর ও নিরাপদ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব। ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ রক্ষায় পালনীয় বিষয়ে লিখেছেন- মুনশি মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সারিবদ্ধ অবস্থান : ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সারিবদ্ধ হয়ে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এটি শুধু নাগরিক শৃঙ্খলার বিষয় নয়; এর স্পষ্ট নৈতিক ও শরয়ি ভিত্তি রয়েছে। এটি কোরআন-সুন্নাহর শৃঙ্খলা, ন্যায়-সমতার শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ। লাইন ভাঙা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা অন্যায়। শান্তভাবে লাইনে দাঁড়ানো আমানত রক্ষার শামিল। শৃঙ্খলা ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ব্যাপারে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন, যারা তার পথে যুদ্ধ করে সারিবদ্ধভাবে; যেন তারা এক সুদৃঢ় প্রাচীর।’ (সুরা সাফ : ৪)। উলামায়ে তাফসির বলেন, এ আয়াতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো শুধু যুদ্ধ নয়, বরং সমস্ত সামাজিক ও সামষ্টিক কাজে শৃঙ্খলার মূলনীতি বোঝায়। লাইন মানার মূল দর্শন হলো ন্যায় ও সমতা রক্ষা। এ প্রসঙ্গে কোরআনের নির্দেশনা হলো, ‘নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়বিচার ও সদাচরণের নির্দেশ দেন।’ (সুরা নাহল : ৯০)। লাইনে দাঁড়ানো মানে আগে এলে আগে সুযোগ। ক্ষমতাবান ও দুর্বল সমান। এটাই ইনসাফ।

ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামাজে যেমন সারিবদ্ধতা জরুরি, তেমন ভোটের মতো সামষ্টিক আমানতে লাইন মানা আরও অধিক যুক্তিসঙ্গত। বিশৃঙ্খলা, ধাক্কাধাক্কি ও হক নষ্ট করা ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির প্রতিশোধও নেওয়া যাবে না।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৩৪০; মুয়াত্তায়ে ইমাম মালেক : ১৪২৯; মুসনাদ আহমদ : ২৮৬৫)। লাইন ভেঙে ঢোকা মানে অন্যের ক্ষতি ও দুর্বলদের অধিকার নষ্ট করা। এটি হারাম। ভোট একটি আমানত। তাই কোরআনের নির্দেশনা হলো, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের আদেশ দেন, আমানত তার প্রাপকের কাছে পৌঁছে দিতে।’ (সুরা নিসা : ৫৮)। উলামায়ে কেরাম বলেন, ভোট দেওয়া সাক্ষ্য ও আমানতের অন্তর্ভুক্ত। তাই তা শান্তভাবে, শৃঙ্খলার সঙ্গে আদায় করা জরুরি।

অস্ত্র ও অবৈধ বস্তু বর্জন : ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের অস্ত্র, লাঠিসোঁটা বা অবৈধ বস্তু নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। কারণ, ভোটকেন্দ্রে অস্ত্র বহন বা প্রদর্শন, ভয় সৃষ্টি, ক্ষতির আশঙ্কা ও হারাম। শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ উপস্থিতি আমানত রক্ষা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার শামিল। ইসলাম মানুষের জানমাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। ভোটকেন্দ্রে অস্ত্র বহন বা অবৈধ বস্তু রাখা সরাসরি ভয়ভীতি, অস্থিরতা ও ক্ষতির কারণ; যা শরিয়তের উদ্দেশ্যপরিপন্থী। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা নিজেদের হাতেই নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না।’ (সুরা বাকারা : ১৯৫)। অস্ত্রের উপস্থিতি সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ায়। এটি আত্মবিনাশ ও সামাজিক ক্ষতির পথ খুলে দেয়। ইসলামে নিরপরাধের ক্ষতি সাধন হারাম। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যে কেউ অন্যায়ভাবে একজনকে হত্যা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল।’ (সুরা মায়িদা : ৩২)। ভোটকেন্দ্রে অস্ত্র বহন বা ব্যবহার না করলেও আতঙ্ক ছড়ানো বা আঘাতের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। এটিও ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের দিকে অস্ত্র দিয়ে ইশারা করে, ফেরেশতারা তাকে অভিশাপ দেয়।’ (মুসলিম : ২৬১৬)। ইশারা করাই যখন নিষিদ্ধ, তখন ভোটকেন্দ্রে অস্ত্র বহন করে উপস্থিত হওয়া আরও গুরুতর অপরাধ। তা ছাড়া জনসমাবেশে অস্ত্র বহন নিষেধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলমানের জন্য অন্য মুসলমানকে ভীত করা বৈধ নয়।’ (সুনানে আবি দাউদ : ৫০০৪; মুসনাদে আহমদ : ২৩৪৮৩)। ভোটকেন্দ্র জনসমাবেশ। এখানে অস্ত্র থাকাই মানুষকে ভীত করে। অস্ত্র ও অবৈধ বস্তুর সম্ভাব্য ক্ষতি শরিয়ত অনুযায়ী বর্জনীয়। অবৈধ বস্তু ও আইন অমান্য করা নিষিদ্ধ। কোরআনের নির্দেশনা হলো, ‘পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।’ (সুরা মায়িদা : ২)।

গোপনীয়তা রক্ষা : ভোট দেওয়ার সময় গোপন কক্ষের গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে। কারণ, ভোট দেওয়া ব্যক্তিগত আমানত ও সাক্ষ্য। গোপন কক্ষের গোপনীয়তা রক্ষা শরিয়তসম্মত ও আবশ্যক। উঁকি দেওয়া, জিজ্ঞেস করা, প্রকাশে বাধ্য করা গোনাহ। স্বাধীন ও নির্ভয়ে ভোট ন্যায় ও আমানত রক্ষার শামিল। ইসলাম মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, ইচ্ছা ও আমানত রক্ষাকে গুরুত্ব দেয়। ভোট একটি ব্যক্তিগত সাক্ষ্য ও আমানত; তাই গোপন কক্ষে তা গোপন রাখা শরিয়তসম্মত। গুপ্তচরবৃত্তি ও ব্যক্তিগত বিষয়ে অনধিকার চর্চা নিষিদ্ধ। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা পরস্পরের গোপনীয় বিষয়ে অনুসন্ধান করো না।’ (সুরা হুজুরাত : ১২)। গোপন কক্ষে উঁকি দেওয়া, জিজ্ঞেস করা- কাকে ভোট দিলেন; সবই গুপ্তচরবৃত্তি। অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত পরিসরে প্রবেশ নিষিদ্ধ। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মোমিনগণ! তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্যের ঘরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করো না।’ (সুরা নুর : ২৭)। উলামায়ে তাফসির বলেন, এ শিষ্টাচার সব ব্যক্তিগত পরিসরে প্রযোজ্য।

ভোটের গোপন কক্ষও এর অন্তর্ভুক্ত। ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে চাপ ও প্রভাব বিস্তার করা হারাম। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ধর্মের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।’ (সুরা বাকারা : ২৫৬)। সুতরাং যেখানে ঈমানের মতো বিষয়ে জবরদস্তি নেই, সেখানে ভোটের সিদ্ধান্তে চাপ সৃষ্টি আরও বেশি নিষিদ্ধ। গোপন কথা ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত রক্ষার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কেউ কোনো কথা বলার পর গোপন রাখার ইঙ্গিত দিলে, তা আমানত।’ (সুনানে আবি দাউদ : ৪৮৬৮; তিরমিজি : ১৯৫৯)। ভোটকক্ষে প্রবেশ করা গোপনীয়তার ইঙ্গিত। তাই প্রকাশ করা খেয়ানত।

মোবাইল-ফোন ও ভিডিওগ্রাফি : ভোটকক্ষে মোবাইল-ফোন ব্যবহার বা ভিডিওগ্রাফি আইনত নিষিদ্ধ (যদি না বিশেষ অনুমতি থাকে)। কারণ, ভোটকক্ষে মোবাইল-ফোন ব্যবহার বা ভিডিওগ্রাফি নিষিদ্ধ হওয়া শরিয়তসম্মত। ছবি বা ভিডিওগ্রাফি গোপনীয়তা ভঙ্গ, ভয়, প্রভাব, প্রতারণার শামিল। মোবাইলের নিষেধাজ্ঞা মানা আমানত, ন্যায় ও শান্তি রক্ষা। ভোটকক্ষে মোবাইলের নিষেধাজ্ঞা ক্ষতির পথ রুদ্ধ করে। মিথ্যা সাক্ষ্য ও প্রতারণা থেকে সুরক্ষা করে। ছবি তোলা বা ভিডিও দেখিয়ে ভোট দেওয়ার প্রমাণ দাবি করা প্রতারণা ও মিথ্যা সাক্ষ্যের ঝুঁকি বাড়ায়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মিথ্যা কথা বা সাক্ষ্য দেওয়া থেকে দূরে থাক।’ (সুরা হজ : ৩০)। ভোটকক্ষে মোবাইলের ব্যবহার বা ভিডিওগ্রাফির নিষেধাজ্ঞা জনস্বার্থে ও নিরাপত্তার জন্য সরকার প্রণীত বৈধ আইন। আর সরকারি যে আইন গোনাহের আদেশ না দেয়, তা মানা শরিয়তসম্মত ও আবশ্যক।

সুশৃঙ্খল আচরণ : আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশ মেনে চলতে হবে এবং ভোটকেন্দ্রের ভেতরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, উত্তেজনা বা প্রচারণায় লিপ্ত হওয়া যাবে না। কারণ, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে বিশৃঙ্খলা, উত্তেজনা, শ্লোগান বা প্রচারণা ফেতনা ছড়ায়। শান্ত পরিবেশ বজায় রাখা আমানত, ন্যায় ও সমাজিক নিরাপত্তা রক্ষার শামিল। ফেতনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ভোটকেন্দ্র একটি শান্তিপূর্ণ জনসেবা ও আমানত আদায়ের স্থান। সেখানে গোলযোগ, উত্তেজক শ্লোগান বা প্রচারণা করা সরাসরি ফেতনা। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ফেতনা হত্যা থেকেও ভয়াবহ।’ (সুরা বাকারা : ১৯১)। সমাজে অস্থিরতা ও সংঘাত সৃষ্টি ইসলামে নিষিদ্ধ। ইসলাম শান্তি ও সহনশীলতা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘রহমানের বান্দারা পৃথিবীতে বিনয়ের সঙ্গে চলে; অজ্ঞরা কথা বললে তারা বলে- সালাম।’ (সুরা ফোরকান : ৬৩)। ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা এড়িয়ে চলা এ আদবের বাস্তব প্রয়োগ। উচ্চস্বরে চিৎকার, স্লোগান ও উত্তেজক আচরণ নিষিদ্ধ। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমার কণ্ঠ নিচু রাখ। নিশ্চয় সবচেয়ে অপ্রীতিকর শব্দ গাধার ডাক।’ (সুরা লোকমান : ১৯)। ভোটকেন্দ্রে স্লোগান, চিৎকার করা- এ নিষেধের অন্তর্ভুক্ত। জনসমক্ষে উত্তেজনা ও মারামারি নিষিদ্ধ।

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার : প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও গর্ভবতী ভোটারদের জন্য বিশেষ সারির ব্যবস্থা এবং সাহায্য নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ, এটি শরিয়তসম্মত ও প্রশংসনীয় কাজ। এতে কষ্ট লাঘব হয়। অবহেলা বা সমান কষ্টে বাধ্য করা ইসলামের সহজতার নীতির পরিপন্থী। ইসলাম সমাজের দুর্বল ও অসহায়দের অধিকার সংরক্ষণকে ফরজ পর্যায়ের গুরুত্ব দেয়। বিশেষ সারি, অগ্রাধিকার ও সহায়তা এ নীতির বাস্তব প্রয়োগ। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘দয়া ও করুণায় তাদের জন্য বিনয়ের ডানা নত কর।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ২৪)। উলামায়ে তাফসির বলেন, এ আদব শুধু পিতামাতার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়; সমস্ত বয়স্ক ও দুর্বলদের প্রতি আচরণের মূলনীতি। সক্ষমতা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন ও অন্যের কষ্ট লাঘব করা ওয়াজিব। বিশেষ সারির ব্যবস্থা মানে কষ্ট কমানো; কষ্ট চাপানো নয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।’ (সুরা বাকারা : ২৮৬)। দীর্ঘ লাইনে দাঁড় করানো- বিশেষ করে, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, গর্ভবতীদের জন্য- এ নীতির পরিপন্থী। ইসলাম প্রতিবন্ধিতাকে অবমাননা নয়, সম্মানের সঙ্গে সহায়তার বিষয় হিসেবে দেখে। কোরআনে এসেছে, ‘অন্ধ, খোঁড়া ও অসুস্থের ওপর কোনো সংকীর্ণতা নেই।’ (সুরা নুর : ৬১)। শরিয়ত তাদের জন্য ছাড় ও সহায়তা অনুমোদন করেছে। তা ছাড়া বিশেষ সারি ও সহায়তা নিশ্চিত করা সরাসরি নেক আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে, আল্লাহ ততক্ষণ তার সাহায্যে থাকেন।’ (মুসলিম : ২৬৯৯)। বয়স্কদের সম্মান করা নববি শিক্ষা। হাদিসে এসেছে, ‘যে আমাদের ছোটদের প্রতি দয়া করে না এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (তিরমিজি : ১৯২১)। বয়স্কদের জন্য আলাদা সারি বা তাদের অগ্রাধিকার প্রদান এ হাদিসের বাস্তব প্রয়োগ। গর্ভবতী নারীদের ওপরও কষ্ট আরোপ করা শরিয়তসম্মত নয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান, কঠিনতা চান না।’ (সুরা বাকারা : ১৮৫)। ভোটকেন্দ্রে অগ্রাধিকার ও সহায়তা এ সহজতা নীতির বাস্তবায়ন।

পরিবেশের সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা : ভোটকেন্দ্রের প্রাঙ্গণ, প্রাঙ্গণে কাগজ বা ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, ভোটকেন্দ্র পরিষ্কার রাখা ঈমানি দায়িত্ব। ময়লা ফেলা ও অন্যকে কষ্ট দেওয়া নিষেধ। পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা সদকা ও সওয়াবের কাজ। রাষ্ট্রীয় ও জনসম্পদ নষ্ট করা আমানতের খেয়ানত। পরিচ্ছন্নতা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। ইসলামে পরিচ্ছন্নতা শুধু ভদ্রতা নয়; ঈমানের অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।’ (মুসলিম : ২২৩)। ভোটকেন্দ্র যেহেতু একটি সার্বজনীন স্থান, সেখানে পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। ভোটকেন্দ্রের প্রাঙ্গণ, পথ, স্কুল-কলেজ বা সরকারি ভবন- সবই জনসাধারণের অধিকারভুক্ত স্থান। সেখানে ময়লা ফেলা ইসলামের দৃষ্টিতে গোনাহের কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া সদকা।’ (বোখারি : ২৯৮৯; মুসলিম : ৫৮)। এর বিপরীতে রাস্তা বা ভোটকেন্দ্রে কাগজ, পানির বোতল, ব্যানার, খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলা মানুষকে কষ্ট দেওয়ার শামিল। যা সদকার বিপরীত এবং গোনাহের কাজ। ভোটকেন্দ্রে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নোংরা করলে ভোটারদের অসুবিধা হয়। প্রতিবন্ধী ও বয়স্করা কষ্ট পান। দুর্গন্ধ ও রোগের আশঙ্কা তৈরি হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন পরিচ্ছন্নতায় অগ্রগামী, পরিবেশ রক্ষায় সচেতন, জনস্বার্থে দায়িত্বশীল। একজন মুসলিম ভোটার বা কর্মীর উচিত হলো, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলা, অন্যকে ময়লা না ফেলতে উৎসাহ দেওয়া, ব্যানার বা লিফলেট যথাস্থানে ব্যবহার করা, ভোট শেষে জায়গা পরিষ্কার রেখে আসা। নিয়ত বিশুদ্ধ হলে এগুলো ইবাদতের মর্যাদা পায়।

লেখক : গবেষক, প্রাবন্ধিক ও গণমাধ্যমকর্মী