পরিবেশ-প্রকৃতি ও ইসলাম
তাওহিদ তারেক
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মানুষের জন্য যেমন পরিবেশ-প্রকৃতি অপরিহার্য, তদ্রুপ মানুষ ছাড়া পরিবেশ-প্রকৃতিও অর্থহীন। কারণ আল্লাহতায়ালা মানবজাতিকে সমস্ত সৃষ্টির সেরা বানিয়েছেন। আর মানুষ যেন সুস্থ, সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, সেজন্য প্রকৃতির প্রধান কেন্দ্র পৃথিবীকে সাজিয়েছেন নানা উপাদানে। আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে, তার সবই প্রকৃতির উপাদান। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহতায়ালা এ পরিবেশকে একান্ত বাধ্যগত ও সম্পূর্ণ অনুকূল করে দিয়েছেন। এরশাদ হচ্ছে, ‘তিনি তোমাদের কল্যাণে আকাশমণ্ডলি ও পৃথিবীর সমস্ত কিছু নিয়োজিত করেছেন। চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে রয়েছে নিদর্শন।’
(সুরা জাসিয়া : ১৩)।
পরিবেশ আল্লাহর অপার দান : কোন পরিবেশে বাস করলে মানুষের সুবিধা হবে বা মানুষ বেঁচে থাকতে পারবে, ইসলাম তা সুনিশ্চিত করেছে। তাই ইসলাম প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। আমাদের চারপাশে যা কিছু রয়েছে এবং যা প্রাকৃতিক পরিবেশ হিসেবে খ্যাত, এগুলো আল্লাহর অপার নেয়ামত। এরশাদ হচ্ছে, ‘আমি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছি, তাতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি, আর আমি তাতে সুপরিমিতভাবে সবকিছু উদ্গত করেছি। আমি তোমাদের জন্য তাতে জীবিকার উপকরণ সৃষ্টি করেছি। তাদের জন্যও, যাদের অন্নদাতা তোমরা নও। আমারই কাছে আছে প্রত্যেক বস্তুর ভাণ্ডার এবং আমি তা প্রয়োজনীয় পরিমাণেই সরবরাহ করে থাকি। আমি বৃষ্টি-সঞ্চারি বাতাস প্রেরণ করি। অতঃপর আসমান থেকে পানি বর্ষণ করি। আর তা তোমাদের পান করাই।’
(সুরা হিজর : ১৯-২২)।
পরিবেশ সংরক্ষণে ইসলামের তাগিদ : পরিবেশ সুস্থ, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে ইসলামে বেশ তাগিদ রয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা নিজেদের ধ্বংস নিজেরা ডেকে এনো না।’ (সুরা বাকারা : ১৯৫)। অন্য আয়াতে এরশাদ হচ্ছে, ‘মানুষের কৃতকর্মের ফলে জলে-স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে।’ (সুরা রুম : ৪১)। পরিবেশ দূষণ থেকে বাঁচতে হলে পরিচ্ছন্নতা অপরিহার্য। কোরআনে কারিমে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা সম্পর্কে বহু নির্দেশনা রয়েছে। এরশাদ হচ্ছে, ‘আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে, তাদেরও।’ (সুরা বাকারা : ২২২)।
পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার গুরুত্ব : বাথরুম বা টয়লেট স্থাপনের ব্যাপারে রাসুল (সা.)-এর নির্দেশনা হলো, বসত-বাড়ি থেকে দূরে হতে হবে। যেন রোগ-জীবাণুর কারণে পরিবেশ নষ্ট না হয়। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) সূত্রে বর্ণিত; রাসুল (সা.) পায়খানার উদ্দেশ্যে দূরে চলে যেতেন। যেন তাঁকে কেউ দেখতে না পায়। (সুনানে আবি দাউদ : ২)। পরিবেশে যেন রোগ-জীবাণু না ছড়ায়, তাই রাসুল (সা.) উম্মতকে হাঁচি দেওয়ার আগে মুখ ঢাকতে শিখিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত; রাসুল (সা.) যখন হাঁচি দিতেন, তখন তাঁর হাত বা কাপড় দ্বারা মুখ ঢেকে রাখতেন। এর মাধ্যমে তাঁর আওয়াজ নিচু করতেন। (তিরমিজি : ২৭৪৫)। হাতে যেন জীবাণু না লাগে, তাই রাসুল (সা.) শৌচকার্যের আগে ঢিলা দিয়ে পবিত্র হওয়া শিখিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসুল (সা.) প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বেরুলে আমি তাঁর অনুসরণ করলাম। তিনি এদিক-ওদিক চাইতেন না।
যখন তাঁর কাছাকাছি হলাম, তিনি বললেন, ‘আমাকে কিছু পাথর কুড়িয়ে দাও, আমি তা দিয়ে শৌচকার্য সারব।’ আমি আমার কাপড়ের কোচায় করে কয়েকটি পাথর এনে তাঁর পাশে রেখে সরে গেলাম। তিনি প্রয়োজন শেষে সেগুলো কাজে লাগালেন। (বোখারি : ১৫৫)।
