লোভে পাপ পাপে মৃত্যু
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২১, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
মাওলানা দৌলত আলী খান

লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। কথাটি মানুষের মুখের বুলি হিসেবে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। তবে এর বাস্তবতা হাদিসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে মিল রয়েছে। লোভের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। লোভ মানুষের জীবনে কল্যাণ বয়ে আনে না, বরং অধঃপতন ডেকে আনে। লোভী মানুষের চাহিদা পূর্ণ হয় না। সে অকৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে পৃথিবীতে বসবাস করে। সে সবসময় পেতে চায়। মৃত্যুর মাধ্যমেই একমাত্র লোভী মানুষের চাহিদার সমাপ্তি হয়। এছাড়া দুনিয়ার কোনো জিনিস লোভী মানুষের উদর পূর্ণ করতে পারে না। লোভীদের আশা-আকাক্সক্ষা দীর্ঘ হয় এবং অপূরণীয় হয়। তাই ইসলাম ধর্মে লোভকে ধ্বংসাত্মক বস্তু হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। লোভ একটি ঘৃণিত স্বভাব। লোভ মানুষকে সুখী করে না, বরং দীর্ঘ দুশ্চিন্তার দিকে ঠেলে দেয়। এমনকি মৃত্যু দিয়েই লোভের পরিসমাপ্তি হয়। এ মর্মে রাসুল (সা.) বলেন, আদম সন্তানকে ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ দুটি উপত্যকাও যদি দেওয়া হয়, সে তৃতীয়টির আকাক্সক্ষা করবে। বস্তুত আদম সন্তানের পেট মাটি ছাড়া অন্য কিছুই পরিপূর্ণ করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর কাছে তওবা করে আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। (বোখারি : ৬৫১২, মুসলিম : ২৪৬২)।
সাধারণত পার্থিব জগতে মানুষ বয়সে বৃদ্ধ হলেও কিন্তু লোভের ক্ষেত্রে যৌবনতার দিকে এগিয়ে চলে। যত বেশি বয়স বাড়বে তত বেশি লোভের মাত্রাও বাড়বে। বয়সের ভারে শরীর ভেঙে পড়বে, তবে সম্পদের লোভ বর্জন করবে না। অথচ লোভ অমঙ্গল ও দুর্ভোগ ডেকে আনে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, আদম সন্তান বৃদ্ধ হয় এবং দুটি জিনিস তার মধ্যে যৌবনতা লাভ করে, সম্পদের প্রতি লোভ এবং দীর্ঘ জীবনের আকাক্সক্ষা। (মুসলিম : ২৪৫৯)। রাসুল আরও বলেন, এই উম্মতের কল্যাণের সূচনা হলো আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এবং দুনিয়ার প্রতি বিরাগ অবলম্বন করা। আর অনিষ্টতার মূল হলো কার্পণ্য ও লোভ। (বাইহাকি)।
লোভ বর্জনে আত্মশুদ্ধি ও পরহেজগারি নিহিত রয়েছে। লোভ ও পরহেজগারির সমাবেশ এক সঙ্গে হয় না। লোভের স্বভাব যার মধ্যে রয়েছে সে কখনও আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে পারে না। আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে হলে অবশ্যই লোভকে বর্জন করতে হবে। দুনিয়ার মোহ কোনো অবস্থাতেই অন্তরে স্থানে দেওয়া যাবে না। আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথে একমাত্র বাধা হলো লোভ ও দুনিয়ার মোহ। সুতরাং আল্লাহর সান্নিধ্য পেতে হলে লোভকে চিরতরে বর্জন করতে হবে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, দুনিয়ায় খসখসে মোটা পোশাক পরিধান করা এবং স্বাদবিহীন খাদ্য ভক্ষণ করা পরহেজগারি নয়, বরং প্রকৃত পরহেজগারি হলো দুনিয়ার প্রতি মোহকে খাটো রাখা। (শরহে সুন্নাহ)।
লেখক : সহকারী সম্পাদক, মাসিক দাওয়াতুল হক
