ঢাকা শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

নজরুল ইসলামের গজল : বাংলা গানের মাইলফলক

নজরুল ইসলামের গজল : বাংলা গানের মাইলফলক

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে জাতীয় জাদুঘর ‘কাজী নজরুল ইসলামের গজল : বাংলা গানের মাইলফলক’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে। ৩১ মে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নজরুলসংগীত শিল্পী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. প্রিয়াংকা গোপ। আলোচক ছিলেন নজরুলসংগীত শিল্পী ও অনুবাদক অধ্যাপক ড. নাশিদ কামাল। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান।

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. প্রিয়াংকা গোপ বলেন, গজল শব্দের অর্থ প্রেমিকার সঙ্গে কথোপকথন। কেউ কেউ প্রণয় সংগীতও বলে থাকেন। গজলের আদি নিবাস পারস্য হলেও এটি একটি আরবি শব্দ। পারসিক/ফার্সি কবিতার গীতিরূপই মূলত গজল হিসেবে স্বীকৃত। তবে বাংলাদেশে গজল বলতে একশ্রেণির মানুষ নাশীদ কিংবা হামদণ্ডনাতকে বুঝিয়ে থাকেন। কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গজল বাংলা সংগীতের জগতে এক মাইলফলক হিসেবে বিশেষভাব পরিগণিত। কেননা বাংলা সাহিত্যের খুব কম মানুষ আছে যারা ফার্সি জানেন অথবা ফার্সি গীতিকবিতা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলা গান রচনা করেছেন। ১৯৩৫ মাসে গীতগ্রন্থ ‘বুলবুল’ প্রকাশিত হয়। এটি নজরুলের গজল সংকলনরূপে খ্যাত। নজরুলের জীবনের শ্রেষ্ঠ গজলগুলো এ বইয়ের অন্তর্গত। বাংলা কাব্যগীতির ধারায় কাজী নজরুল ইসলামের অবদান অনস্বীকার্য। কবি প্রাণের অভিব্যক্তি এ গজলগানসমূহ। বাংলা গজলে তার অবদানের মূল্যায়ন চিরকাল বাঙালি করে যাবে। কবি নজরুলকে বাঙালি জাতি হিসেবে সমৃদ্ধ ও বাংলা সংগীত ঋদ্ধ হয়েছে।

কে এম খালিদ বলেন, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি মুসলিম জনগোষ্ঠীর জাতীয় নবজাগরণের প্রতীক। তিনি আধুনিক গান, প্রেমের গান, শ্যামা সংগীত, ইসলামি গান লিখেছেন। কাজী নজরুল ইসলামের আগে বাংলায় কেউ গজল গান লেখেননি। ইসলামের প্রতি তার গভীর অনুরাগ থেকেই তিনি ইসলামি গানের প্রতি ঝুঁকে পড়েছিলেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত