
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন কোনো সীমানা মানে না। তাই, গ্রহকে রক্ষা করার জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সাসটেইনেবিলিটিবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বলেন, ‘টেকসইতা এবং মূল্য প্রক্রিয়ার মধ্যে গভীর সমন্বয়হীনতা রয়েছে। পরিচ্ছন্ন ও সবুজ উৎপাদন বিনামূল্যে করা যায় না। আবার, বাংলাদেশের মতো সরবরাহকারী দেশের নিজস্ব চ্যালেঞ্জ এবং সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তাই এ বিষয়ে আরও কৌশলগত সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন।’ গতকাল সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি।
বিজিএমইএ সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন যে, বিজিএমইএ তার সকল এজেন্ডার শীর্ষে রেখেছে পরিবেশ এবং বিগত কয়েক দশকে পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের পথে শিল্পের যে অগ্রযাত্রা হয়েছে, তা সে সত্যকেই তুলে ধরে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের সর্বোচ্চ সংখ্যক গ্রীন কারখানার আবাসস্থল, যেখানে ইউএসজিবিসি কর্তৃক প্রত্যায়িত ১৫৭টি কারখানা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৪৭টি প্লাটিনাম রেটেড ও ৯৬টি গোল্ড রেটেড এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১০০টি কারখানার মধ্যে ৪০টি বাংলাদেশে অবস্থিত। আরও ৫০০টি কারখানা সনদ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘এই গ্রীন কারখানাগুলো পরিবেশবান্ধব সব বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এবং একটি সাধারণ কারখানার তুলনায় ৪০ শতাংশ কম কার্বন নিঃসরণ করে।’ পোশাক শিল্পে সবুজ শিল্পায়নে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বিজিএমইএ সম্প্রতি ইউএসজিবিসি অ্যাওয়ার্ড ২০২১ সম্মাননা পেয়েছে। এই প্রথমবার বাংলাদেশে কোনো সংগঠন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উদ্যোগের স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা পেয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সুইডেন দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন এবং হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ক্রিস্টিন জোহানসন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক, বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ, আওয়াজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক নাজমা আক্তার এবং ডিবিএল গ্রুপের চিফ সাসটেইনিবিলিটি অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল্লাহ প্রমুখ।