দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে সর্বনিম্ন পারফরম্যান্স

প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত তিন বছর ধরে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালেও বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে দেশের পুঁজিবাজার। এ বছর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবার নিচে ছিল বাংলাদেশের পুঁজিবাজার। দক্ষিণ এশিয়ার পুঁজিবাজারগুলোর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালে প্রায় সব সূচকেই এসব দেশ বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল। এ বছর বাংলাদেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৮৬৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের বছরে যা ছিল ৫ হাজার ২১৬ পয়েন্ট।

অন্যদিকে ২০২৫ সালে পাকিস্তানের কেএসই সূচকটি ৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, ২০২৪ সাল শেষে যা ছিল ৭২ হাজার ১৬০ পয়েন্ট। শ্রীলঙ্কার সিএসইঅল সূচকটি ৪০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে ২২ হাজার ৪৪৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, ২০২৪ সাল শেষে যা ছিল ১৫ হাজার ৮২৭ পয়েন্ট। আর ভারতের বিএসই সেনসেক্স সূচকটি ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৭৯৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, ২০২৪ সালে যা ছিল ৭৮ হাজার ৩৫৮ পয়েন্ট।

২০২৫ সালে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে সূচক কমলেও বাজার মূলধন ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬২০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালে ডিএসইর দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৬৩১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। যেখানে এ বছর দৈনিক গড় লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৫২১ কোটি ৫৯ লাখ টাকায়। এ সময়ে লেনদেন কমেছে ১৫ দশমিক ৭১ শতাংশ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান শেষে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসান হবে এবং শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। তবে কিছু ঘটনায় অপরাধীদের বড় আর্থিক জরিমানা করলেও বাস্তবে আদায় হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সরাসরি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পুঁজিবাজার অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দূরত্ব এ সময় দৃশ্যমান ছিল। ফলে ‘নামমাত্র’ যেসব সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে বাজারে আস্থা তৈরি করেনি। পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্স গঠিত হলেও তেমন কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। শুধু মার্জিন রুলস বিধিমালা ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ বছর পুঁজিবাজারে বেশকিছু নেতিবাচক ঘটনাও ঘটেছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা চিন্তা না করেই বাজার থেকে পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া তালিকাভুক্ত আরও আটটি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।