দেশে নতুন করে ২ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসরকারিভাবে ভারত থেকে নতুন করে আরও দুই লাখ টন সিদ্ধ চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ঢাকার এ সিদ্ধান্তে খুশি হয়েছেন ভারতীয় মিল মালিক এবং রপ্তানিকারকরা। তারা বলছেন, নতুন করে চাল আমদানির অনুমতির মাধ্যমে পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতে রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বার্তাসংস্থা পিটিআই গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, মিল মালিকরা জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকার ২৩২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ২০২৬ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত আমদানির অনুমতি দিয়েছে। দেশের বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মিল মালিকরা আরও জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশ চাল আমদানির কথা জানায়। নতুন দুই লাখ টন চাল সেটির একটি সংযোজন। বন্যায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় মজুদ আবারও আগের জায়গায় আনতে বাংলাদেশ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ টন চাল আমদানি করার উদ্যোগ নিয়েছে।

ভারতীয় চাল রপ্তানি ফেডারেশনের (আইআরইএফ) সভাপতি প্রেম গার্গ বার্তাসংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, ‘ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশ ভারতের চালের নিয়মিত ক্রেতা। বাংলাদেশ সবসময়কার আমদানিকারক। বাংলাদেশের চাল রপ্তানির প্রাথমিক সুবিধাভোগী হলো অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ীরা।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে কাছে হওয়ায় এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে দাম কম হওয়ায় বিষয়টি ভারতীয় ব্যবসায়ীর জন্য সহায়ক। জয় বাবা বাকেশ্বর চাল মিলের পরিচালক রাহুল খৈতান জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ বাজারে চাপের কারণে বাংলাদেশ বেসরকারিভাবে চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার নতুন করে আরও দুই লাখ টন চাল আমদানির যে ঘোষণা দিয়েছে, তা বেসরকারি আমদানিকারকদের মাধ্যমে আগে ঘোষণা করা পাঁচ লাখ টন চালের অতিরিক্ত।

বাংলাদেশে চালের দাম, বিশেষ করে সেদ্ধ চালের দাম অনেক বেড়ে গেছে। আমার মনে হয়, সে কারণেই ওখানকার সরকার চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে ভারতীয় চালকল মালিকদের জন্য বাংলাদেশে বাড়তি চাল রপ্তানি করার একটা ভালো সুযোগ তৈরি হবে।’ বাংলাদেশ যে ৯ লাখ টন চাল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেগুলোর মধ্যে পাঁচ লাখ টন বেসরকারি এবং বাকি চার লাখ টন সরকারিভাবে আনা হবে।

দেশটির ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ভারত এখনও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং সাশ্রয়ী চাল রপ্তানিকারকে স্থান ধরে রেখেছে। তারা বলেছেন, সাম্প্রতিক বাণিজ্যে দেখা গেছে যেখানে ভারতের সাদা চাল প্রতি টনের দাম পড়ছে ৩৫১ থেকে ৩৬০ ডলার। যেখানে পাকিস্তানের চালের দাম পড়ছে ৩৯৫ ডলার।