লঘুদণ্ড দিয়ে এনবিআর কর্মকর্তা সেহেলার বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অতিরিক্ত কর কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকার মূল বেতন দুই ধাপ অবনমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এনবিআর সংস্কার আন্দোলনে অংশ নিতে কর্মচারীদের দাপ্তরিক দায়িত্ব বাদ দিয়ে রাজস্ব ভবনে আসতে বাধ্য করতে সংগঠকের ভূমিকা পালনের অভিযোগে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সই করা আদেশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। গতকাল রোববার এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি জানিয়েছেন। ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট এক আদেশে এনবিআরের কাস্টমস বিভাগের ওই অতিরিক্ত কমিশনারসহ চার কাস্টমস কমিশনারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। যেখানে এনবিআর সংস্কার আন্দোলনের কর্মসূচি পালন ও দেশের রাজস্বকার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ আনা হয়।

এনবিআর আদেশ সূত্রে জানা, অতিরিক্ত কর কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকা আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, ঢাকায় কর্মরত থাকাকালে গত ২১ মে ২০২৫ তারিখে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একাধিক বার্তা দিয়ে এনবিআরের আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থল ত্যাগ করে নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ওই বার্তায় ঢাকাস্থ কর্মকর্তাদের রাজস্ব ভবনে উপস্থিত থাকা এবং ঢাকার বাইরে কর্মরত কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এনবিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বার্তার মাধ্যমে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিক দায়িত্ব পরিত্যাগে উদ্বুদ্ধ করেন এবং সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। এতে দেশের রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ মনে করে, তার এ ধরনের কার্যকলাপ সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ৩০এ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং একই বিধিমালার ৩২ বিধি অনুযায়ী অসদাচরণের শামিল।

পাশাপাশি এটি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) ধারায় বর্ণিত ‘অসদাচরণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়। অভিযোগের পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করে কৈফিয়ত তলব করা হয়। কৈফিয়তের জবাব দাখিল ও ব্যক্তিগত শুনানির আবেদনের পর গত ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে কর্তৃপক্ষ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সেহেলা সিদ্দিকার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তার কর্মকাণ্ড সরকারি চাকরির শৃঙ্খলার পরিপন্থি এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।