ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে ন্যায্যতা ও নৈতিকতা চর্চার তাগিদ

প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

এলডিসি উত্তরণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জনের জন্য দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ন্যায্যতা ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ী নেতারা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এসব মতামত উঠে আসে। সভাটির আয়োজন করে দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি)।

সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, সফলভাবে এলডিসি উত্তরণ এবং টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় কমাতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোর সেবার মান ও কাজের গতি বাড়ানো এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে নৈতিকতার চর্চা প্রতিষ্ঠা জরুরি। তিনি উদ্যোক্তাদের লাইসেন্স প্রাপ্তি, নবায়ন, নিবন্ধন, কাস্টমসসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে যে জটিলতার মুখে পড়তে হয়, তার সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সরকারি এজেন্সিগুলোর কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জন্য তারা ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন এবং সিঙ্গেল উইন্ডো বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আইবিএফবির পরিচালক এমএস সিদ্দিকী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সরকার গৃহীত আইন ব্যবসা সহজীকরণ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়, যা বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম বলেন, সরকারি দপ্তরগুলোতে কিছু পদ্ধতিগত জটিলতা রয়েছে, তবে সেগুলো সহজীকরণের সুযোগ আছে। সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানানোর জন্য ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানান তিনি। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার একটি জটিল প্রক্রিয়া হলেও অন্তর্বর্তী সরকার এরইমধ্যে বেশ কিছু সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে। এখন আচরণগত সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। স্বাগত বক্তব্যে আইবিএফবির সভাপতি লুৎফুন্নিসা সাউদিয়া খান বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে নৈতিক ব্যবসায়িক চর্চার কোনো বিকল্প নেই। উদ্যোক্তাদের চ্যালেঞ্জ শুধু আইন দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়; প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা, উন্মুক্ত সংলাপ ও অংশীদারিত্বমূলক দায়বদ্ধতা। সমাপনী বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান বলেন, ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে বেসরকারি খাত থেকে যেসব পরামর্শ এসেছে, সেগুলো এফবিসিসিআই সরকারের কাছে তুলে ধরবে। একই সঙ্গে ন্যায্য মুনাফার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের সামাজিক, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক, সাধারণ পরিষদের সদস্য, মহাসচিব মো. আলমগীর, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স উইংয়ের প্রধান মো. জাফর ইকবাল এনডিসি, এফবিসিসিআই সেইফটি কাউন্সিলের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু নাঈম মো. শাহিদউল্লাহ, আইবিএফবি এবং বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।