গভর্নর নিয়োগ পুনর্বিবেচনার দাবি করেছে নাগরিক কোয়ালিশন

প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে একজন ব্যবসায়ী ও সক্রিয় রাজনীতিককে নিয়োগ দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাগরিক কোয়ালিশন। সংগঠনটি এই নিয়োগকে স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) হিসেবে অভিহিত করে তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে সার্চ কমিটি এবং সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে শুনানির ভিত্তিতে নতুন গভর্নর নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে তারা। গতকাল রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নাগরিক কোয়ালিশন এ দাবি জানায়। বিবৃতিতে নাগরিক কোয়ালিশনের সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর সই করেন। নাগরিক কোয়ালিশন হলো সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের প্ল্যাটফর্ম।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সরকার এমন একজনকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, যার সামষ্টিক অর্থনীতি বা আর্থিক খাত ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত কোনো বিশেষায়িত দক্ষতা নেই। দেশে এই প্রথম কোনো ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান করা হলো, যা আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে তুলনীয় অন্য কোনো দেশেও নজিরবিহীন।

নাগরিক কোয়ালিশন মনে করে, নবনিযুক্ত গভর্নর তৈরি পোশাকশিল্প ও আবাসন খাতের মতো প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি নির্ধারণে ব্যবসায়ী স্বার্থের প্রতিফলন ঘটার প্রবল শঙ্কা রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নবনিযুক্ত গভর্নর নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ বিবেচনায় ৮০ কোটি টাকার বেশি ঋণ পুনঃতফসিল করেছিলেন। এটি আইনগতভাবে সিদ্ধ হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানের মতো সংবেদনশীল পদের জন্য এটি নৈতিকতার মানদণ্ডে প্রশ্নবিদ্ধ। সংগঠনটি বলছে, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান সংসদের বড় অংশই ব্যবসায়ী এবং তাদের অনেকেই ঋণগ্রস্ত।

এই প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য কীভাবে স্বাধীনভাবে ব্যাংকিং খাতের নেতৃত্ব দেবেন, তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে। নাগরিক কোয়ালিশন আরও বলেছে, বিএনপি তার নির্বাচনি ইশতেহারে ব্যাংক খাতের সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের অঙ্গীকার করেছে।

স্বার্থের দ্বন্দ্বপুষ্ট ব্যক্তিকে গভর্নর নিয়োগ দেওয়া সেই অঙ্গীকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই নিয়োগের ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও বিগত কর্তৃত্ববাদী আমলের মতো প্রভাবশালী ব্যবসায়ী লবির হাতিয়ারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।