ব্যাংকের ঋণ খারাপ হওয়ার আগেই নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে হবে

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যাংকগুলোর ঋণের ঝুঁকি কমাতে আরও উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে প্রত্যাশিত ঋণ ক্ষতি (ইসিএল) পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক প্রতিবেদনের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী, এ পদ্ধতি চালু হলে ব্যাংকগুলোর ঋণ শ্রেণিকরণ ও নিরাপত্তা সঞ্চিতি ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। ফলে কোনো ঋণ খারাপ হওয়ার আগেই সম্ভাব্য ক্ষতি বিবেচনা করে ব্যাংকগুলোকে নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে। পরিচালন মুনাফা থেকে নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে। নতুন এই ব্যবস্থা ২০২৮ সাল থেকে কার্যকর হবে। গতকাল রোববার এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে দেশের ব্যাংকগুলো ঋণ শ্রেণিকরণ ও নিরাপত্তা সঞ্চিতি কার্যক্রম পরিচালনা করে ‘ক্ষতি হওয়ার পর’ ভিত্তিতে। কিন্তু আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে সম্ভাব্য ঋণ ক্ষতির পূর্বাভাসের ভিত্তিতে আগাম প্রভিশন রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে অতীত তথ্যের পাশাপাশি বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সামষ্টিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস যেমন জিডিপি প্রবৃদ্ধি, সুদের হার ও মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে ঋণের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী, ঋণ তিনটি ধাপে শ্রেণিকরণ করা হবে। প্রথম ধাপে স্বাভাবিক ঋণের ক্ষেত্রে আগামী ১২ মাসের সম্ভাব্য ক্ষতির ভিত্তিতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি নির্ধারণ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে ঋণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলে পুরো মেয়াদের সম্ভাব্য ক্ষতির ভিত্তিতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে হবে। তৃতীয় ধাপে ‘ক্রেডিট ইমপেয়ার্ড’ বা ক্ষতিগ্রস্ত ঋণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ মেয়াদের সম্ভাব্য ক্ষতির ভিত্তিতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে। এ ছাড়া সুদ আয়ের স্বীকৃতিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন কাঠামোর অধীনে ঋণের ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী সুদ আয়ের হিসাব নির্ধারণ করা হবে। ফলে ব্যাংকের প্রকৃত আয় ও ঝুঁকির চিত্র আরও বাস্তবসম্মতভাবে প্রতিফলিত হবে। জানা গেছে, ২০২০ সালে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল বাংলাদেশ এ ধরনের মানদণ্ড বাস্তবায়নের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। এত দিন এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা ছিল না।