মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, হুমকিতে বেসরকারি খাত

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাত, বৈশ্বিক বাণিজ্যে অচলাবস্থা এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে দেশের বেসরকারি খাতের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনটি মনে করে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় কমানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ছাড়া বিনিয়োগ ফেরানো সম্ভব নয়।

গতকাল সোমবার ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বেসরকারিখাতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিদ্যমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন আলোচকরা। সেমিনারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, এ সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে বর্ণিত আর্থিক সুপারিশ বাস্তবায়নে কার্যকর নীতি প্রণয়নে কাজ করে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকার সচেতন এবং এ অভিঘাত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণ এ সরকারের অন্যতম লক্ষ্য উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের সুফল যেন প্রতিটি মানুষ পেতে পারে সেটার উপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি জানান, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরিতে সরকার প্রাধান্য দেবে।

তিনি আরও বলেন, করজাল সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ থাকলেও আমরা ততটা মনোযোগী নই, ফলে আমাদের স্থানীয় ও বৈশ্বিক ঋণের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে, এ অবস্থা নিরসনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক প্রভাব

সেমিনারে মূল প্রবন্ধে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, অতিসম্প্রতি শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের কারণে সামগ্রিক বৈশ্বিক বাণিজ্যে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে, বিশেষ করে আমাদের শিল্পখাতে ব্যবহৃত জ্বালানির বড় অংশ আমদানি নির্ভর হওয়ায় দেশের বেসরকারি খাতে অস্থিরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে মার্কিন প্রশাসন নতুন শুল্ক নীতি স্থানীয় ও বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব আসতে পারে।

তিনি এলডিসি উত্তরণ আরও ৩ বছর পিছিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি প্রত্যাহার এবং সুদের হার কমানোর দাবি জানান। অন্যদিকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. মঞ্জুর হোসেন বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হতে হলে উৎপাদনশীল খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি উচ্চ সুদের হারের সমালোচনা করে বলেন, বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশের জন্য এটি কাম্য নয়।

সেমিনারে এসএসজিপি-এর অতিরিক্ত সচিব এএইচএম জাহাঙ্গীর জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা আরও ৩ বছর পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আকতার হোসেন বলেন, মুদ্রাস্ফীতি বর্তমানে ৯-এ রয়েছে, তবে সম্প্রতি শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতা আসার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি নিতে হবে, তা না হলে মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়াও অনুষ্ঠানের নির্ধারিত আলোচনায় পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. একে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, যুক্তরাজ্যভিত্তিক রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম রিয়াজ আসাদুল্লাহ এবং বিজিএমইএ-র পরিচালক ও সুরমা গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল সামাদ সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।