জ্বালানির মূল্য অপরিবর্তিত রাখার চেষ্টা করছি : প্রতিমন্ত্রী
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
অর্থনীতি যতদিন চাপ নিতে পারবে ততদিন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি যতদিন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ সহ্য করতে পারবে ততদিন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে না। গতকাল রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।
তিনি বলেন, পৃথিবীতে প্রায় ৮৫টি দেশে জ্বালানি তেরের দাম বেড়েছে। ইউএসএতেও পার গ্যালনে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ সেন্ট পর্যন্ত বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়াতেও ৭০ থেকে ৭৫ সেন্ট পর্যন্ত পার গ্যালনে বেড়েছে। সেখানে একটি নতুন সরকার। এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের মতো একটি দেশে আমরা জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করিনি। এটার মাধ্যমে তো এই মেসেজটুকুই যায় যে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের দুঃখ-কষ্টের ব্যাপারে ওয়াকিবহাল এবং কোনোভাবেই যেন কষ্ট কিংবা দুঃখ বৃদ্ধি না পায় সেটাকে বিবেচনায় নিয়েই কিন্তু সরকার এইটা সহ্য করছে। আমরা জ্বালানি তেলের মূল্য অপরিবর্তিত রাখবার চেষ্টা করছি।
‘একটি কথা বলেছি, আজও আপনাদের স্পষ্ট করছি। দেশের অর্থনীতি যতদিন পর্যন্ত, যে মুহূর্ত পর্যন্ত এই চাপ সহ্য করতে পারবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই মুহূর্ত পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অর্থাৎ জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের নেই।’ তিনি বলেন, সরকারের জ্বালানি তেল বিক্রির রেশনিং প্রত্যাহারের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার সুফল যেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী পর্যন্ত পৌঁছায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় দীর্ঘ আলোচনা করেছে। এমনকি সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও এ বিষয়ে দীর্ঘ সময় বৈঠক হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তের সুবিধা যাতে ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছায়, সেজন্য আমাদের ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি থাকলে তা ঠিক করার জন্য আমরা আলোচনা করেছি। গতকাল সন্ধ্যা থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। আজও সারাদিন ধারাবাহিক বৈঠক রয়েছে। তিনি জানান, এ প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের সহযোগিতাও চাওয়া হবে।
রাশিয়া থেকে তেল সরবরাহ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি সরকার পরিকল্পনা ছাড়া কোনো কিছু কাজ করে না। সে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে করছি। আর আমি আপনি প্রথম যে অংশে আপনাকে খুব স্পষ্ট করে বলি যে, আপনি রাশিয়ার তেলের যে সাপ্লাইয়ের কথা, এটা আমরাও জানি।
এখানে আমরা দুটো বিকল্প নিয়ে কথা বলছি। এমন হতে পারে রাশিয়ার ক্রুড অয়েল অন্য কোনো দেশ থেকে রিফাইন্ড হয়ে এখানে আসবে, সেটাও হতে পারে। যদিও তাদের আরেকটি কোম্পানি আমাদের বলার চেষ্টা করেছে তারা যে ধরনের তেল সাপ্লাই দেবে, সেটা আমাদের রিফাইনারি সেটা রিফাইন্ড করতে পারবে।
আমরা তাদের কাছে স্পেসিফিকেশন চেয়েছি। প্রতিমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী ও বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে অন্তত চলতি বোরো মৌসুম পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহে কোনো সংকট তৈরি না হয়।
