যুদ্ধের আবহে বিশ্ববাজারে বেড়েছে ডলারের দাম
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
গতকাল বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতে ডলার আগের শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। কয়েক দিন ধরেই ডলারের দাম বাড়ছে। আজ সেই ধারাবাহিকতা বজায় আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত কমবে কি না- এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর খুঁজছেন বিনিয়োগকারীরা। একই সঙ্গে ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বাড়াতে পারে, এমন ধারণা থেকেও কিছুটা সরে এসেছেন তারা। এই বাস্তবতায় ডলারের মান অপরিবর্তিত আছে। খবর রয়টার্সের।
ইয়েনের বিপরীতে ডলারের মান প্রায় অপরিবর্তিত আছে। প্রতি ডলারের বিপরীতে ১৫৯ দশমিক ৪১ ইয়েন পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ ২০২৪ সালের পর ইয়েনের বিপরীতে ডলারের দর এখন সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি। অন্যদিকে অস্ট্রেলীয় ডলারের মান শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে শূন্য দশমিক ৬৯৪৩ ডলারে নেমেছে। নিউজিল্যান্ডের ডলার শূন্য দশমিক ৫৮০৬ ডলারে স্থির আছে।
সামগ্রিকভাবে মার্চ মাসে ডলার ইনডেক্সের মান প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে। অক্টোবরের পর এটাই ডলার ইনডেক্সের মাসিক সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, ফেড আপাতত সুদহার কমাবে না।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, একদিকে তেলের দাম বাড়তি, অন্য দিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির সমাধান দেখা যাচ্ছে না; এই পরিস্থিতিতে ডলারের পালে যে হাওয়া লেগেছে, তা আগের মতোই থাকবে। যুদ্ধ বন্ধের ইঙ্গিত না থাকলে এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। বন্ডের সুদহারও বাড়ছে। ফলে ডলারের শক্তিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত বুধবার বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত সংঘাত নিয়ে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা নেই। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলার ইনডেক্স বা সূচকের মান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৯৯ দশমিক ৬৪১-এ উঠেছে। এক সপ্তাহের যা এক দিনে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংক ওয়েস্টপ্যাকের বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাজার এখন পুরোপুরি খবরনির্ভর। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ কি প্রকৃত অর্থেই উত্তেজনা হ্রাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে, নাকি নতুন কোনো সামরিক পরিস্থিতির পূর্বাভাস, তা যাচাই করছেন বিনিয়োগকারীরা। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে জ্বালানির দাম বাড়ার পর বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ে আগের ধারণা বদলাতে শুরু করেছে। ফলে ফেডারেল রিজার্ভ সারা বছর সুদহার অপরিবর্তিত রাখতে পারে- এমন প্রত্যাশা জোরালো হচ্ছে। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বর মাসের বৈঠকে সুদহার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা বেড়ে ৭০ দশমিক ৬ শতাংশ হয়েছে; আগের দিন যা ছিল ৬০ দশমিক ২ শতাংশ। এদিকে অফশোর লেনদেনে চীনের ইউয়ানের বিপরীতে ডলার প্রায় অপরিবর্তিত আছে। প্রতি ডলারে এখন ৬ দশমিক ৯০২৬ ইউয়ান পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ১৪-১৫ মে চীন সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক হবে।
ইউরোর মান ১ দশমিক ১৫৬০ ডলারে স্থির আছে। ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন ল্যাগার্ড ইঙ্গিত দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়লে সুদহার বাড়ানো হতে পারে। এ মন্তব্যের পর টানা দুই দিনের পতন থেমে কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে ইউরো। প্রতি এক ব্রিটিশ পাউন্ডের বিপরীতে এখন ১ দশমিক ৩৩৬৫ ডলার পাওয়া যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ৩ শতাংশে স্থির আছে। যদিও এই হার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। পাউন্ডের ওপর চাপ পুরোপুরি কাটেনি। ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে বিটকয়েনের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৭১ হাজার ২৪৭ ডলারে উঠেছে। আর ইথার শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১৭০ ডলারে উঠেছে।
