কর্মীদের আয়কর থেকে দায়মুক্তি চায় নোয়াব
প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউজপ্রিন্টের ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার, সংবাদপত্রে কর্পোরেট কর হার কমিয়ে ১০ শতাংশ, নিউজপ্রিন্ট আমদানির ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার ও কর্মীর আয়কর থেকে প্রতিষ্ঠানকে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটির পক্ষে এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় নোয়াবের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন নোয়াব সভাপতি মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। এ সময় আরও বক্তব্য দেন প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান।
নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, দেশের অনেক রপ্তানিমুখী বা বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্প বর্তমানে ১০ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ কর্পোরেট কর সুবিধা ভোগ করলেও সংবাদপত্র শিল্পকে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। সমাজ গঠনে সংবাদপত্রের অনন্য ভূমিকা ও বর্তমান আর্থিক সংকটের নিরিখে, এই শিল্পকেও সমপর্যায়ের কর সুবিধা প্রদান করা অত্যন্ত যৌক্তিক এবং নীতিগতভাবে সংগত। তাই ২০২৬-২৭ সালের বাজেটে সংবাদপত্রের কর্পোরেট কর হার কমিয়ে ১০ শতাংশ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
কর্মীর আয়কর থেকে প্রতিষ্ঠানকে দায়মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে নোয়াব সভাপতি বলেন, আয়কর আইন ২০২৩ এর ৮৬ ধারা অনুসারে সরকারিসহ সব প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা নিজের আয়কর নিজে প্রদান করেন। এটা রাষ্ট্রের অন্যতম নীতি। অথচ সংবাদপত্র ওয়েজ বোর্ড অনুসারে কর্মীর আয়ের ওপর প্রযোজ্য আয়কর প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করতে হয়। দেশে এমন কোনো আইন থাকা উচিত নয় যা সবার জন্য সমভাবে প্রযোজ্য নয়।
কর্মীদের আয়কর না দেওয়ার দাবির প্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, ওয়েজবোর্ডের অর্ডারনামায় উল্লেখ আছে যে সংবাদপত্রের মালিকরা ট্যাক্স দেবেন- এমন একটি বিষয় প্রচলিত আছে। কিন্তু বাস্তবে এটি হওয়া উচিত নয়। ট্যাক্স দেওয়ার দায়িত্ব কর্মীদেরই হওয়া উচিত এবং তাদের বেতন থেকেই আয়কর কাটা হব্লে- এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে নতুন ওয়েজবোর্ড হলে আমরা এ বিষয়টি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরব, যাতে কর্মীদের আয়কর কর্মীরাই দেন- এই নীতিটি বহাল থাকে।’
