উৎপাদন কমায় সরবরাহে টান ডিমের দামে ঊর্ধ্বগতি
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর খুচরা বাজারে আবারও বেড়েছে ডিমের দাম। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খামার পর্যায়ে উৎপাদন কমে যাওয়া, খাদ্য ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহে টান পড়ায় ডিমের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, হাতিরপুল ও যাত্রাবাড়ী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২৫ টাকা এবং সাদা ডিম ১১০-১১৫ টাকায়। আকারভেদে কোথাও কোথাও দাম উঠেছে ১৩০ টাকা পর্যন্ত। হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ডজনপ্রতি প্রায় ১৮০ টাকায়।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনপ্রতি প্রায় ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এই হিসেবে এক মাস ধরলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩০ টাকা। একমাস আগে প্রতি ডজন ডিম ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানায়, পাইকারি বাজারেই দাম বাড়ছে, ফলে খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়ছে।
কারওয়ান বাজারপর ডিম বিক্রেতা সামিউল বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়লেই আমাদেরও বাড়াতে হয়। গত কয়েক দিনের মধ্যেই ডজনে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। সামনে আরও বাড়তে পারে। আরেক বিক্রেতা জানান, খামার থেকে আগের মতো নিয়মিত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবহন খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের মতে, গরম মৌসুমে খামারে উৎপাদন কিছুটা কমে যায়। এ সময় খাদ্যসহ উৎপাদন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচ বাড়লে বাজারে তার প্রভাব পড়া স্বাভাবিক।
বাজারে ডিমের দাম বাড়ার পেছনে অনেক বিক্রেতা পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করলেও জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে ডিজেলের কোনো সংকট নেই। সরবরাহ পরিস্থিতিও স্বাভাবিক রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্প্রতি ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে কয়েক হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসেছে এবং আরও আমদানির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ফলে জ্বালানি সংকটের কারণে ডিমের দাম বেড়েছে- এ দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ভিন্নমত রয়েছে। তবে সম্প্রতি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে হু-হু করে। ফলে ডিমের দাম আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। খামারি ও ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি খামারিদের একটি বড় অংশ লোকসানের কারণে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন বা খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। তাদের মতে, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সামনে বাজারে ডিমের সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে।
ডিম সাধারণ মানুষের সবচেয়ে সহজলভ্য প্রোটিনের অন্যতম উৎস হওয়ায় এর দাম বাড়লে সরাসরি প্রভাব পড়ে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের ওপর। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ক্রেতা রায়হান বলেন, ডিম তো প্রতিদিনের খাবারের একটা অংশ। কিন্তু এখন প্রায় সবকিছুর সঙ্গে ডিমের দামও বাড়ছে। সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আরেকজন ক্রেতা বলেন, আগে সপ্তাহে কয়েক ডজন ডিম কিনতাম। এখন কমিয়ে দিতে হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রোজার আগে যেখানে ডজনপ্রতি ডিম প্রায় ১০০ টাকার আশপাশে ছিল, সেখানে এখন তা ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে এই বৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
তাদের মতে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহে অনিয়ম এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা- এই তিনটি কারণ একসঙ্গে কাজ করায় ডিমের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
