ওপেক থেকে বেরিয়ে গেল আরব আমিরাত
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
বিবিসি
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) হঠাৎ করেই তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক (ওপেক) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে- বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে এটি বড় ঘটনা। ১৯৭১ সালে জাতিরাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের আগে থেকেই তারা ওপেকের সদস্য ছিল। উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর এই সংগঠন কয়েক দশক ধরে উৎপাদন বাড়ানো-কমানো এবং সদস্যদের জন্য কোটা নির্ধারণের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করেছে। ১৯৭০-এর দশকের তেলসংকটে ওপেকের ভূমিকার কল্যাণে বৈশ্বিক জ্বালানিনীতি আমূল বদলে যায়।
ওপেকের উৎপাদনে সৌদি আরবের প্রাধান্য থাকলেও অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার দিক থেকে ইউএই ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। অর্থাৎ বাজারে দাম কমাতে প্রয়োজন হলে উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর সক্ষমতা ছিল তাদের। কিন্তু এ সক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে ইউএই তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে, কেননা তারা যে বিনিয়োগ করেছে, সেটা তারা পুরোপুরি কাজে লাগাতে চেয়েছে। ওপেকের কোটা অনুযায়ী ইউএইকে দৈনিক ৩০-৩৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদনের মধ্যে থাকতে হতো। তারা মনে করছিল, এই কোটার কারণে ক্ষতি হচ্ছে। এই সদস্যপদের কারণে তাদের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। ইরান যুদ্ধ ঘিরে চলমান যে উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্থিরতা, তার কারণে ইউএইএর পররাষ্ট্রনীতি নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। এর প্রভাবে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের পাশাপাশি সৌদি আরবের সঙ্গেও টানাপোড়েন বাড়াতে পারে। ওপেকের জন্যও আরব আমিরাতের এ সিদ্ধান্ত বড় ধাক্কা। এমন এক সময় ইউএই এ সিদ্ধান্ত নিল, যখন জোটের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও ঐক্য প্রশ্নের মুখে।
ইউএই যদি সমুদ্রপথ বা পাইপলাইনের মাধ্যমে তাদের তেল পুরোপুরি বাজারে আনতে পারে, তাহলে তারা দৈনিক ৫০ লাখ ব্যারেল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারবে।
এর জবাবে সৌদি আরব মূল্যযুদ্ধ শুরু করতে পারে।
