হাড়িভাঙ্গা আমে ২৫০ কোটি টাকারও বেশি বাণিজ্যের আশা
প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
বাসস

রংপুরের ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের প্রতীক হাঁড়িভাঙ্গা আম। যার সুনাম ছড়িয়েছে বিদেশেও। যার ফলে এই আমটি এখন জিআই পণ্য। স্বাদণ্ডগন্ধে অতুলনীয় এই আমের জন্য অপেক্ষা আর মাত্র এক মাস। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে এই আমকে কেন্দ্র করে রংপুর অঞ্চলে ২৫০ কোটি টাকারও বেশি বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বাসসকে বলেন, আমরা আশা করছি এ বছর আড়াইশ’ কোটিরও বেশি টাকার বাণিজ্য হবে এই আমে। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলায় ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহের বৃষ্টি আম বড় হতে ও রসালো হতে সাহায্য করেছে। যদিও মাঝখানে কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় সামান্য ক্ষতি হয়েছে, তবে সার্বিকভাবে ফলন গত বছরের চেয়ে ভালো হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ ও আমচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে পাকা হাঁড়িভাঙা আম বাজারে মিলবে। এরআগে বাজারে হাঁড়িভাঙা আম পাওয়া গেলেও তা অপরিপক্ব থাকে। একটু বেশি দামের আশায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিয়ম ভঙ্গ করে বাজারে অপরিপক্ব হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি করেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাঁড়িভাঙা আম এক বছর কম ফলন দেয়, পরের বছর আবার ভালো ফলন দেয়। যে বছর কম ফলন হয়, সেই বছরকে বলা হয় ‘অফ ইয়ার’। যে বছর ভালো ফলন দেয়, সেই বছরকে কৃষিবিদদের ভাষায় বলা হয়ে থাকে ‘অন ইয়ার’। এবার হাঁড়িভাঙা আমের ‘অন ইয়ার’। এবার গাছে প্রচুর আম ধরেছে, যা গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি।
কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এবার ডিসেম্বরের প্রথম দিক থেকেই গাছে আমের মুকুল আসতে শুরু করে। জুনের মাঝামাঝি সময়ে গাছ থেকে আম পাড়া হয়। কৃষি বিভাগ আশা করছে, এবার ঠিক সময়ে গাছ থেকে আম পাড়া শুরু হবে।
রংপুর জেলায় এবার আম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর। এরমধ্যে ৩হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে হাড়িভাঙ্গা প্রায় ১০-১২ মেট্রিক টন ফলন হয়। যার মূল্য ২৫০ কোটি টাকারও বেশি। মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ এলাকার আমচাষি নাজমুল ইসলাম বলেন, ঝড়ো হাওয়ার কারণে আমের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। সামনে আরও ঝড় হলে লোকসান গুনতে হবে।
পদাগঞ্জের তরুণ উদ্যোক্তা ও আমচাষি নাজমুল ইসলাম জানান, তিনি ১২ একরের বেশি জমিতে আমের চাষ করেছেন। গত কয়েকদিন আগে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে বাগানের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বাসসকে বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক বড় বড় পার্টি ইতোমধ্যেই যোগাযোগ শুরু করেছেন। আশা করছি, এবার আমের দাম ও চাহিদা দু’টোই সন্তোষজনক হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের রংপুর জেলার সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু বাসসকে বলেন, হাঁড়িভাঙ্গা আম এখন আর কেবল দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই।
