অপ্রদর্শিত আয়ের প্রবণতা বন্ধে নিবন্ধন ব্যয় কমানোর আহ্বান

প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ ও আবাসন খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোর কমপ্লায়েন্স, রিপোর্টিং, কেওয়াইসি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একই সঙ্গে অপ্রদর্শিত আয়ের প্রবণতা বন্ধে নিবন্ধন ব্যয় কমানোর আহ্বান জানিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।

গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ১২ তলায় বিএফআইইউ কনফারেন্স রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। রিহ্যাব প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল। এসময় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিএফআইইউ’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুনসহ অন্য কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া সভায় রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকতউল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ এ এফ এম ওবায়দুল্লাহ, পরিচালক মাহবুবুর রহমান, আলহাজ গোলাম কিবরিয়া মজুমদার, এ জেড এম কামরুদ্দিন, ক্যাপ্টেন শাহ আলম, খাজা নজিবুল্লাহ চৌধুরী, এম ফখরুল ইসলাম ও এমদাদুল হোসেন সোহেল উপস্থিত ছিলেন। সভায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী রিয়েল এস্টেট খাতের রিপোর্ট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব, করণীয় ও কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, দেশের আবাসন খাতকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন খাতে রূপান্তরে রিহ্যাব সবসময় সরকারের আইন ও নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে বিএফআইইউ’র সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল করতে রিহ্যাব কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে তিনি নিবন্ধন ব্যয় কমিয়ে অপ্রদর্শিত আয়ের প্রবণতা বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রিয়েল এস্টেট খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য পূরণে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইন অনুযায়ী রিপোর্টিং ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় দক্ষ করে তুলতে রিহ্যাব ধারাবাহিকভাবে কাজ করবে।

সভায় রিহ্যাবের অন্য নেতারাও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। এ বিষয়ে দুদক, এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে প্রশিক্ষণ, সচেতনতা ও সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এসময় বিএফআইইউ কর্মকর্তারা রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রযোজ্য বিভিন্ন কমপ্লায়েন্স, রিপোর্টিং প্রক্রিয়া, গ্রাহক যাচাইকরণ (কেওয়াইসি) এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন।