
যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান নতুন রেকর্ড নিম্নতায় নেমেছে। গতকাল মঙ্গলবার এক ডলারের বিপরীতে রুপির দর দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ৫৮, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনায় আর্থিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় ভারতের বৈদেশিক ভারসাম্যের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রুপির এই রেকর্ড পতন দেখলো বাজার। এর ঠিক আগের দিনই এক মাসের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ পতনের রেকর্ড গড়েছিল রুপি। গত সোমবার বাজার বন্ধ হয়েছিল প্রতি ডলার ৯৫.৩১ রুপি দরে। গতকাল মঙ্গলবার সেই রেকর্ডও ভেঙে আরও নিচে নেমে গেল ভারতের এই মুদ্রা।
মুদ্রা ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, আমদানিকারকদের বাড়তি ডলার চাহিদা এবং ভারতীয় বাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের কারণে রুপির ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। এদিকে রুপির এই দুর্বল অবস্থার পেছনে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত এপ্রিলে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে বর্তমানে ‘লাইফ সাপোর্ট’-এ আছে বলে বর্ণনা করেছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা এবং তেলের বাজারে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি না ফিরলে এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে না এলে ভারতীয় রুপির এই পতন ঠেকানো কঠিন হতে পারে। এর ফলে ভারতের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে বড় ধরনের চাপ তৈরির আশঙ্কা করা হচ্ছে।