পাবজি-সিওডি খেলতেও দিতে হবে কর
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের বহু মানুষের অবসরের সঙ্গী অনলাইন মোবাইল গেমস। লাইভ স্ট্রিমিং করে মোবাইলের এসব গেমস কেন্দ্র করে আয়ও করছেন অনেকে। অনলাইনে জনপ্রিয় সব গেমস খেলতে গেলেও দিতে হবে কর। বাংলাদেশে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় পাবজি মোবাইল, কল অব ডিউটি (সিওডি), ইএ স্পোর্টস সকার (ফুটবল) প্রভৃতি গেমসে কর বসানোর কথা ভাবছে সরকার। আগামী অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। উচ্চাভিলাষী এ লক্ষ্য পূরণে দেশের দ্রুত বর্ধনশীল অনলাইন গেমিং খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে ডিজিটাল অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় আনা, অনলাইন লেনদেনের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি ও অনিয়ন্ত্রিত বিদেশি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থপাচার রোধ করতে চায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপ বলছে, বর্তমানে দেশের ৭০ শতাংশ বা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি পরিবার অন্তত একটি স্মার্টফোন ব্যবহার করে। বিভিন্ন সুবিধার কারণে দেশে স্মার্টফোনের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। শহর-গ্রাম নির্বিশেষে খানা (পরিবার) পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার এখন ৫০ দশমিক ৪ শতাংশ। এনবিআর সূত্র জানায়, কিশোর-তরুণদের বড় অংশ মোবাইল গেমস খেলে নিয়মিত। বর্তমানে বাংলাদেশের অনলাইন গেমিং বাজারের আকার দুই হাজার কোটি টাকার বেশি। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিস্টার তথ্য অনুযায়ী, এ খাতের বড় অংশের লেনদেন এখনো কর ব্যবস্থার বাইরে। বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইলেকট্রনিক স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিওয়াইডিইএসএ) সভাপতি ড. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. মুনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এটা অবশ্যই ইতিবাচক হবে। দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে। আরও আগেই এ খাতকে করের আওতায় আনা উচিত ছিল।’‘অনলাইন গেমসের ওপর কর বসিয়ে কত টাকার রাজস্ব পাওয়া যাবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আমরা একটা ডিজিটাল সমাজ তৈরি করার চেষ্টা করছি। সেখানে ইন্টারনেট ব্যবহারে মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন খাত থেকে রাজস্ব আদায় করছে। কন্টেন্ট থেকে কর আদায়ের প্রচেষ্টা সঠিক হবে না।’ বলছিলেন বেসিসের সাবেক সভাপতি ও প্রযুক্তিবিদ সৈয়দ আলমাস কবীর। তিনি বলেন, এখানে কর বসালে হয়তো গ্রাহক ভিপিএন বা অন্যভাবে খেলবে। সরকারে উচিত প্যাসিভ রেভিনিউয়ের দিকে মনোযোগ দেওয়া। এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মে ইন-অ্যাপ পারচেজ, সাবস্ক্রিপশন ফি, ভার্চুয়াল গেমিং কারেন্সি ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও সম্পূরক শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি ব্যবহারকারী আন্তর্জাতিক গেমিং প্ল্যাটফর্মে স্কিন, চরিত্র, ভার্চুয়াল কয়েন ও প্রিমিয়াম ফিচার কিনতে অর্থ ব্যয় করছেন। এসব লেনদেনের বেশিরভাগই করের আওতার বাইরে থাকছে।
