হিলি স্থলবন্দরে মসলার আমদানি বাড়ায় বাজারে দাম কমেছে
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
বাসস

দিনাজপুর হিলি স্থল বন্দর দিয়ে মসলা আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পবিত্র ঈদুল আযহায় মসলার সংকট নেই এবং দাম পূর্বের তুলনায় কমতে শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার দিনাজপুর হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী এই তথ্য বাসসকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে মসলা জাতীয় পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে জিরা, আদা, সাদা এলাচসহ বিভিন্ন মসলা এই বন্দরের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা করা হচ্ছে। আমদানি করা মসলা হিলি স্থল বন্দর থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন পরিবহনযোগে রাজধানী ঢাকা, বগুড়া, পাবনা টাঙ্গাইলসহ দেশের সর্বত্রই সরবরাহ করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার সকালে হিলি স্থলবন্দর বাজারে বিভিন্ন মসলার পাইকারি ও খুচরা দোকান গুলোতে পর্যাপ্ত সরবরাহ লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে মসলা কিনতে আসেছেন পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা।
হিলি স্থলবন্দর কাস্টমস বিভাগের সহকারী কমিশনার এসএম সাইফুজামান রাজীব বাসসকে জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ মে পর্যন্ত জিরা, ছোট এলাচ, কাজুবাদাম এবং কিসমিস মিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার মেট্রিক টনের অধিক মসলা ভারত থেকে এই স্থল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে। এরমধ্যে শুধু জিরা ও ছোট এলাচের পরিমাণ সাড়ে ৭ হাজার মেট্রিক টন।
মসলা আমদানিকারক সিরাজুল ইসলাম জানান, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে মসলার বৃহৎ অংশ এই বন্দর দিয়ে আমদানি করা হচ্ছে। আমদানি স্বাভাবিক থাকলে, ঈদে মসলার দাম ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। চাহিদা থাকায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে মসলা জাতীয় পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে আমদানি হচ্ছে আদা, জিরা, ছোট এলাচ, মহুরি, কিসমিস, কাজুবাদামসহ বিভিন্ন ধরনের মসলা। আমদানি করা এসব মসলা নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে বন্দর থেকে। প্রতিদিন যাচ্ছে ঢাকা, বগুড়া, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সূত্র জানায়, প্রতি বছর ঈদুল আযহার আগে মসলার দাম বৃদ্ধি পায়। তবে এবার সেটা ব্যতিক্রম। জিরা এলাচসহ প্রতিটা মসলা জাতীয় পণ্যের দাম কমেছে। সাদা এলাচ কেজি প্রতি প্রকার ভেদে ৫শ’ থেকে ৭শ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ছোট এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২শ’ থেকে ৪ হাজার ৫শ’ টাকা কেজি দরে।
গত দুই সপ্তাহ পূর্বে জিরা প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা হিলি স্থলবন্দরে পাইকারি বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে ৫৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। একইভাবে গোল মরিচ, লবঙ্গ, কালো এলাচসহ সব ধরনের মসলার দাম কমে গেছে। এতে অনেক গুণ বেড়ে গেছে মসলার বেচা-কেনা। হিলি বাজারে বগুড়া শহর থেকে মসলা কিনতে এসেছেন জয়নাল আবেদীন।
তিনি বলেন, হিলি বাজার থেকে জিরা, দারচিনি, ছোট এলাচসহ বিভিন্ন ধরনের মসলা ক্রয় করেছি। গত বছর এর তুলনায় এবার কিছুটা কম দামে মসলা কিনতে পেয়ে অনেক ভাল লাগছে। মসলার কোয়ালিটি অনেক ভাল বলে অভিমত দেন। হিলি পাইকারি বাজারে মসলা বিক্রেতা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতি বছর ঈদুল আযহার আগে মসলার দাম বৃদ্ধি পায়। তবে এবারে নতুন করে বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সেটা ব্যতিক্রম হয়েছে। সরকারিভাবে নজরদারি বৃদ্ধি করার কারণে জিরা এলাচসহ প্রতিটা পণ্যের দাম কমেছে।
তিনি বলেন, গত কয়েক মাস আগে মসলার যে দাম ছিল, বর্তমানে তা অনেকটা কমে গেছে। সাদা এলাচ কেজি প্রতি প্রকার ভেদে ৫শ’ থেকে ৭শ’ টাকা পর্যন্ত প্রতি কেজিতে দাম কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ছোট এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২শ’ থেকে ৪ হাজার ৫শ’ টাকা পর্যন্ত। জিরা ৬৫০ টাকা কেজি থেকে দাম কমে বর্তমানে ৫৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। একইভাবে দারুচিনি, গোল মরিচ, লবঙ্গ, কালো এলাচসহ সব ধরনের মসলার দাম কমেছে। ফলে এবারে হিলি মসলার পাইকারি বাজারে বেচা-কেনাও বেড়ে গেছে।
গত কোরবানি ঈদে সাদা এলাচ প্রকারভেদে প্রতি কেজি ৫ হাজার ৫শ’ থেকে ৫ হাজার ৮শ’ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৪ হাজার ২শ’ থেকে ৪ হাজার ৫শ’ টাকায়। কালো এলাচের দামও কমেছে। আগে ৩ হাজার টাকা থাকলেও এখন প্রকার ভেদে ২ হাজার ৪শ’ থেকে ২ হাজার ৫শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ১ হাজার ৮শ’ টাকার লবঙ্গ এখন ১ হাজার ৪শ’ টাকা, গোলমরিচ ১ হাজার ২শ’ টাকায় এবং জিরা কেজিপ্রতি ৬৩০ টাকা থেকে কমে বর্তমানে ৫৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
হিলি কাস্টমস বিভাগের রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল আজম বাসসকে বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য স্বাভাবিক রয়েছে। আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে আদা, জিরাসহ মসলা যাতীয় পণ্য আমদানি, পরীক্ষণ শুল্কায়ন শেষে আমদানিকৃত সকল পণ্য দ্রুত খালাসসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। যাতে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহার ঈদে দেশে মসলার কোনো ধরনের সংকট সৃষ্টি না হয় এবং বাজারদর ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
