ডিএসইতে বছরের সর্বোচ্চ লেনদেন, উড়ছে শেয়ারবাজার
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে দেশের শেয়ারবাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। প্রতিনিয়ত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনের গতিও বাড়তে দেখা যাচ্ছে। ফলে শেয়ারবাজার নিয়ে আবারও আশাবাদী হয়ে উঠছেন বিনিয়োগকারীরা।
গতকাল বুধবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় মূল্যসূচকও বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিএসইতে চলতি বছরের সর্বোচ্চ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। ডিএসইতে এদিন লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৭৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ৮০ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১৯৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বরের পর ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন হলো। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৪০০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
এর আগে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার আগেও শেয়ারবাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। ঈদের আগে টানা পাঁচ কার্যদিবস শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকে। আর ঈদের পর লেনদেন হওয়া তিন কার্যদিবসেই ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলেছে। এতে টানা আট কার্যদিবস শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিললো। এই আট কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ২৩৮ পয়েন্ট বেড়েছে।
বুধবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকে। এতে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৪৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৮টির এবং ৪৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১২৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪৫টির দাম কমেছে এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪৩টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩১টির এবং ১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৭১টির শেয়ার দাম বেড়েছে।
বিপরীতে দাম কমেছে ২২টির এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৬টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৪১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৭ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৫৭ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে চলতি বছরের সর্বোচ্চ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৭৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ৮০ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১৯৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বরের পর ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন হলো। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৪০০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
এ লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে মীর আকতার হোসেন লিমিটেডের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা একমি পেস্টিসাইডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার। ২৩ কোটি ২৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সোনারগাঁও টেক্সটাইল।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, এনসিসি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, টেকনো ড্রাগস, জেনেক্স ইনফোসিস, গোল্ডেন সন এবং আরডি ফুড। অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১০৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৪টির এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
