করভিত্তি বাড়াতে খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকেও নেওয়া হবে কর
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের জিডিপি কর অনুপাত নিয়ে নানামুখি সমালোচনার মধ্যে সরকার ‘করভিত্তি’ বাড়াতে বেছে নিয়েছে খুচরা বিক্রিতাদের; যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। তাতে করে গেল কয়েক বছরের উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে হিমশিম খেতে থাকা সীমিত বা নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জীবন যাপনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সরকার খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে যে কর নেবে, তা পরে তার করের সঙ্গে ‘সমন্বয়’ করার কথা বললেও প্রান্তিক খুচরা বিক্রেতারা করদাতা হিসেবে রিটার্ন দেওয়ার প্রবণতা না থাকায় এ কর আর ‘সমন্বয়’ না হওয়ার শঙ্কা থাকছে। তাদের করবিষয়ক ‘লিটারেসি’ থাকা বা না থাকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বিশ্লেষকদের।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার তার বাজেট বক্তৃতায় প্রতি হাজারে দুই টাকা কর কেটে রাখার বিধান প্রস্তাব করেছেন। তিনি বলেন, “করভিত্তি সম্প্রসারণের জন্য খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহের ওপর ০.২০ শতাংশ অগ্রিম কর সংগ্রহের প্রস্তাব করছি। ‘খুচরা বিক্রেতাদের নিকট থেকে সংগৃহিত এ অগ্রিম করের পরিমাণ হবে অতি নগণ্য, প্রতি ১ হাজার টাকায় মাত্র ২ টাকা। তাছাড়া, অগ্রিম সংগৃহিত এ আয়কর করদাতার প্রদেয় করের সাথে সমন্বয় হবে।’
অর্থ্যাৎ, যখন উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, পাইকারি বিক্রেতা বা আড়ৎদার খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করবে তখন যে পরিমাণ মূল্যের পণ্য সরবরাহ করবে, তার বিপরীতে দশমিক ২০ শতাংশ করে কর কেটে রাখতে হবে উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, পাইকারি বিক্রেতা বা আড়দারদের। যেহেতু দেশের কোটির বেশি খুচরা বিক্রেতাকে আইনের জালে আনা সম্ভব না, তাই সেক্ষেত্রে এ বিধানের ব্যত্যয় হলে উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, পাইকারি বিক্রেতা বা আড়ৎদার ধরা হবে বা তাদের কাছ থেকে এ অর্থ আদায় করা হবে।
