এনসিটি-সিসিটি ইজারার উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে কালো পতাকা মিছিল
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে কালো পতাকা মিছিল করেছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), চট্টগ্রাম। ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল না করলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন স্কপ নেতারা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নগরীর আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড় এলাকা থেকে বন্দর অভিমুখে এই মিছিল শুরু হয়।
নগরীর বারিক বিল্ডিং মোড়ে মিছিল শেষ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়েছে। সমাবেশ থেকে স্কপ নেতারা অবিলম্বে এনসিটি ও সিসিটি ইজারার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
সমাবেশে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত বলেন, ‘এনসিটি নির্মাণ করা হয়েছে বন্দরের খরচে মানে জনগণের টাকায়। তাহলে জনগণের টাকায় গড়া একটি টার্মিনাল কেন বিদেশি অপারেটরকে দিতে হবে। অবিলম্বে ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল না করলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’ বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) কেন্দ্রীয় সংগঠক ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, ‘একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ টার্মিনাল কেন বিদেশিদেরকে ইজারা দিতে হবে। জনগণ এটা চায় না। যদি সরকার এনসিটি ও সিসিটি ইজারার উদ্যোগ বাতিল না করে তাহলে আমরা জনগণকে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলব। আশা করি তার আগেই সরকারেন শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।’
স্কপের যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার কামাল খান বলেন, ‘যে ডিপি ওয়ার্ল্ড আমেরিকান নেভির স্বার্থ রক্ষা করে, তাদের বন্দর দিয়ে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া শুরু করেছিল আওয়ামী লীগ। সেই আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট বলে তাদের অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারও সেটা এগিয়ে নিতে চায়। ‘প্রধানমন্ত্রী আপনি জনগণের শক্তিতে বলীয়ান। আপনি দেশ ও জনগণের স্বার্থ চিন্তা করে এ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবেন আশা করি। আমরা আপনার সাথে দেখা করতে চাই। যদি আমাদের কথা অযৌক্তিক মনে হয় তাহলে আপনি আপনার কাজে এগিয়ে যাবেন। আর যদি যৌক্তিক হয় তাহলে আমাদের দাবি মেনে নেবেন।’
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ চট্টগ্রাম বন্দরের দুটি টার্মিনাল ‘জনগনের উদ্বেগ এবং মতামতকে উপেক্ষা করে’ ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ ‘জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি’ উল্লেখ করে এ উদ্যোগে বাতিলের দাবিতে স্কপ এই কর্মসূচি পালন করে। গতকাল মঙ্গলবারের সমাবেশে ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা হেলাল উদ্দিন কবির এবং জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা মো. মাসুদসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ৪ জুন এক চিঠিতে এনসিটি ইজারায় দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এরপর ১০ জুন এনসিটি ইজারা না দেওয়াসহ ৬ দফা দাবিতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছিল স্কপ। চট্টগ্রাম বন্দরের চালু থাকা চারটি কন্টেইনার টার্মিনালের মধ্যে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল সবচেয়ে বড়। গত বছর চট্টগ্রাম বন্দরে হ্যান্ডলিং হওয়া কন্টেইনারের ৪৪ শতাংশ হয় এনসিটিতে।
২০২৪ সালের ৭ জুলাই থেকে এনসিটি পরিচালনা দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিডিএল)। এরপর থেকে এনসিটিতে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এবং গর্ভমেন্ট টু গর্ভমেন্ট (জিটুজি) কাঠামোর অধীনে এনসিটি পরিচালনার কাজ ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেসময় ওই উদ্যোগ পরিণতি না পেলেও অর্ন্তবর্তী সরকারের মেয়াদে আবার এই প্রক্রিয়া গতিশীল হয়। অর্ন্তবর্তী সরকারের শেষ সময়ে এ বিষয়ে চুক্তি হয়ে যাওয়ার জোর আলোচনা শুরু হলে আন্দোলনে যায় বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীরা। সবশেষ চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি এনসিটিতে বিদেশি অপারেটরকে ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দেয় অর্ন্তবর্তী সরকার। ৪ জুনের চিঠিতে দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে সরকারের নির্দেশনার পর আলোচনা প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ১২ সদস্যের একটি সাপোর্ট টিমও গঠন করে।
