খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ওয়ান টাইম এক্সিট’ সুবিধা চালু
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ব্যাংকিং খাতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ কমিয়ে, আদায় বাড়াতে এবং ব্যাংকগুলোর নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বিশেষ ‘ওয়ান টাইম এক্সিট’ (ঝঢ়বপরধষ ঊীরঃ) সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সুবিধার আওতায় নির্ধারিত শর্তপূরণ করে মন্দ ও ক্ষতিজনক শ্রেণির খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এককালীন অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে ঋণ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি-১) থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার লেটার জারি করে দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং নতুন ঋণ বিতরণের সক্ষমতা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে খেলাপি ঋণ কমানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিভিন্ন কারণে আর্থিক সংকটে পড়লেও যেসব ঋণগ্রহীতার ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে এবং ঋণ পরিশোধে আন্তরিকতা আছে, তাদের জন্য এই বিশেষ এক্সিট সুবিধা চালু করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমবে, অন্যদিকে নতুন ঋণ বিতরণের সক্ষমতা বাড়বে, যা উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সার্কুলার অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তি তারিখে মন্দ (ইধফ) ও ক্ষতিজনক (খড়ংং) মানে শ্রেণিকৃত ঋণগুলো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন এবং ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিশেষ এক্সিট সুবিধার আওতায় আনা যাবে। এ সুবিধা পেতে ঋণগ্রহীতাকে এককালীন পুরো দায় পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে আরোপিত ও অনারোপিত সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ববর্তী কিছু শর্ত শিথিল করা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালের দুটি সার্কুলারে তহবিল ব্যয় আদায় এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের আয় খাত বিঘ্নিত না করার যে শর্ত ছিল, এ বিশেষ সুবিধার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া ৬ আগস্ট ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ সময়ের মধ্যে পুনঃতফসিল করা মন্দ ও ক্ষতিজনক শ্রেণির ঋণও এ বিশেষ এক্সিট সুবিধার আওতায় আসবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, বিশেষ এক্সিট সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে কৃষিখাতের স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণ এবং সিএমএসএমই খাতের কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্রঋণ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, এ বিশেষ সুবিধার বিষয়ে ঋণগ্রহীতাদের অবহিত করতে ব্যাংকগুলোকে চিঠি পাঠানোসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ নির্দেশনা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ও ৪৯(১) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশেষ এক্সিট সুবিধা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে খেলাপি ঋণ আদায়ে গতি আসবে এবং ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনমুখী খাতে নতুন ঋণ প্রবাহও বাড়বে।
