আমানতকারীদের টাকা সুদসহ ফেরত দেওয়া হবে
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যাংক খাতের সংস্কার ও আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে এবং আমানতকারীরা তাদের জমানো টাকা সুদসহ ফেরত পাবেন। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের ‘হেয়ার কাট’ (আমানতের অর্থ কর্তন) করা হবে না। গতকাল বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানুর এক জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট ব্যাংক (এক্সিম), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক এই পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। এর ফলে এসব ব্যাংকের সব আমানতকারীর স্বার্থ এখন নতুন ব্যাংকে সংরক্ষিত। বিগত সরকারের আমলে বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল অঙ্কের অর্থ ফিরিয়ে আনতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পাচার করা অর্থ উদ্ধারে নয় আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানকে ‘নো উইন নো ফি’ (টাকা উদ্ধার হলেই কেবল ফি প্রদান) শর্তে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রাথমিকপর্যায়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১১ কেসের মধ্যে ছয় বড় গ্রুপের বিরুদ্ধে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু আমানতকারীদের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ৭৫ লাখ গ্রাহক আজ দিশেহারা। ‘হেয়ার কাট’ নামক মরণ কাট দিয়ে যেন গ্রাহকের টাকা কেটে নেওয়া না হয়। এর জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি আগেই বলেছি, এটা একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। আশ্বস্ত করতে চাই, আমানতকারীরা তাদের টাকা সুদসহ ফেরত পাবেন। যেহেতু আমরা সুদসহ টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলছি, তাই ‘হেয়ার কাট’ হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। তবে ব্যাংকগুলো বর্তমানে লোকসানে থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।
মন্ত্রী জানান, আমানত সুরক্ষা আইনের আওতায় সুরক্ষার পরিমাণ এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক লুটেরাদের শনাক্ত করতে বিশেষ ফরেনসিক অডিট চলছে। ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী, দায়ী ব্যক্তিদের দেশি-বিদেশি সম্পত্তি ও তহবিল নিলাম বা বিক্রয় করে গ্রাহকের টাকা উদ্ধার করা হবে।
