বিমার ঢালাও দরপতনে কমল সূচক-লেনদেন

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস গতকাল বুধবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিমা কোম্পানির শেয়ারের ঢালাও দরপতন হয়েছে। এতে দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান থাকার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। ডিএসইর মতো অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক কমেছে। এ বাজারটিতে দাম বাড়ার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ডিএসইর মতো এ বাজারেও লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। তবে লেনদেনের শেষদিকে বিমা কোম্পানির শেয়ার দামে ঢালাও দরপতন হয়। তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে অন্যান্য খাতেও। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৪৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৯২টির এবং ৫৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে, বিমা কোম্পানির মধ্যে ১৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে এবং ৩৯টির দাম কমেছে। বাকি ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে, ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭০টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০৯টির দাম কমেছে এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩০টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪১টির এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪২টির এবং ৩৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১২টির দাম কমেছে এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৭০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৬৯ পয়েন্টে নেমে গেছে। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৮৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। প্রধান মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১৫৬ কোটি ১১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ৩৮৮ কোটি ৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ২৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

এ লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৩ কোটি ৯২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ২৩ লাখ টাকার। ২৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সি পার্ল বিচ রিসোর্ট। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- আইপিডিসি ফাইন্যান্স, ইস্টার্ন হাউজিং, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, ফারইস্ট নিটিং, ড্রাগন সোয়েটার, আইটি কনসালটেন্টস এবং সামিট এলায়েন্স পোর্ট।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৪৭ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৪৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৫টির এবং ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।