দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে সূচক
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসের মতো তৃতীয় কার্যদিবস গতকাল মঙ্গলবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ ব্যাংকের শেয়ার দাম বেড়েছে। সেইসঙ্গে বস্ত্র খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। এতে বড় হয়েছে দাম বাড়ার তালিকা। ফলে সূচকের বড় উত্থান হয়েছে এবং ডিএসইর প্রধান সূচক প্রায় দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে। সেইসঙ্গে লেনদেন বেড়ে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে বেড়েছে মূল্য সূচক। সেইসঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। এর মাধ্যমে চলতি সপ্তাহের তিন কার্যদিবসেই শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিললো।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ ব্যাংক ও বস্ত্র কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্য সূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৯৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩৭টির এবং ৫৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে ১৯টি ব্যাংকের শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৪টির দাম কমেছে। আর ৪২টি বস্ত্র কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৬টির দাম কমেছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৯১টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮৪টির দাম কমেছে এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪৬টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২১টির এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩২টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৬টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৯১১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ১৪ আগস্টের পর সূচকটি সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে আসলো। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট ডিএসইর প্রধান সূচক ৫ হাজার ৯৫২ পয়েন্টে ছিল।
অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২৪ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২২৭ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২০৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬৫১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ৪১৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ২৩২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে লাভেলো আইসক্রিমের শেয়ার। কোম্পানিটির ৭৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৯ কোটি ২৫ লাখ টাকার। ৩৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মালেক স্পিনিং।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- লাফার্জাহোলসিম, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, ব্র্যাক ব্যাংক, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, বিএসআরএম স্টিল, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট এবং ইস্টার্ন হাউজিং।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৬৭ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ ২৫২ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৯টির এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৭৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩০ কোটি ১০ লাখ টাকা।
