সূচকের পতন ঠেকাল ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমার দরপতন

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। এরপরও প্রধান মূল্যসূচক সামান্য বেড়েছে। মূলত অধিকাংশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ায় সূচকের এই ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলেছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বস্ত্র ও মিউচুয়াল ফান্ডও দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখেয়েছে। তবে বিমা কোম্পানির শেয়ারের ঢালাও দরপতন হয়েছে।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। এরপরও বাজারটিতে মূল্যসূচক কমেছে। সূচক সমলেও সিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। তবে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশি প্রতিষ্ঠান। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকে। তবে লেনদেনের শেষদিকে অধিকাংশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ে। সেই সঙ্গে বস্ত্রখাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডেরও দাম বাড়ে। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হলেও প্রধান মূল্যসূচক সামান্য বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৪৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮২টির এবং ৫৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে ১৮টি ব্যাংকের শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছে ২টির। আর্থিক খাতের ১১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বেড়েছে এবং ৩টির দাম কমেছে।

এছাড়া বস্ত্রখাতের ৩১টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে এবং ১২টির দাম কমেছে। মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২২টির শেয়ার দাম বেড়েছে এবং ৬টির দাম কমেছে। অপরদিকে বিমাখাতের মাত্র ৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৫২টির দাম কমেছে। এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০৩টির দাম কমেছে এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২৮টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৯টির এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৮টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪০টির এবং ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় পরও ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২০৮ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক দশমিক ৬০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৯৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

প্রধান মূল্যসূচক সামান্য বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯৬৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ৭০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১০৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪৭ কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা টেকনো ড্রাগসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকার। ২৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সামিট এলায়েন্স পোর্ট। এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- এসিআই ফর্মুলেশন, ফারইস্ট নিটিং, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, জেনেক্স ইনফোসিস, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, এমএল ডাইং এবং লাফার্জাহোলসিম। অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১০ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ ২২৩ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৭টির এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা।