দাপট ধরে রাখল মিউচুয়াল ফান্ড, পতনে সূচক
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
আগের কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস গতকাল সোমবারও শেয়ারবাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট ধরে রেখেছে মিউচুয়াল ফান্ডগুলো। এর মাধ্যমে টানা তিন কার্যদিবস দাম বৃদ্ধিতে দাপট দেখাল মিউচুয়াল ফান্ড। তবে অন্য খাতগুলো হেঁটেছে বিপরীত পথে। ফলে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি কমেছে মূল্য সূচক। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান। তবে বড় মূলধনের বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম কমায় এ বাজারটিতেও মূল্য সূচক কমেছে। তবে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় মিউচুয়াল ফান্ডসহ অন্যান্য খাতের বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে মূল্য সূচকে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার কারণে লেনদেনের এক পর্যায়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ২৪ পয়েন্ট বেড়ে যায়।
লেনদেনের শেষ পর্যন্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। তবে লেনদেনের শেষদিকে বড় মূলধনের বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম কমে যায়। এতে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্য সূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৬৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৬৯টির এবং ৫৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে ২৪টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে পাঁচটির দাম কমেছে এবং পাঁচটির অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯২টির কমেছে এবং ২১টির অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২৮টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৩৭টির এবং নয়টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৩৯টির এবং ২৯টির অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৮৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় নয় পয়েন্ট কমে দুই হাজার ২০৪ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ছয় পয়েন্ট কমে এক হাজার ১৮৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্য সূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কিছুটা কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ২১০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় একহাজার ২৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৪৭ কোটি ১১ লাখ টাকা।
এ লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪০ কোটি ৩২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফারেইস্ট নিটিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৬ কোটি ৬ লাখ টাকার।
৩২ কোটি ১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মুন্নু ফেব্রিক্স।
এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- এসিআই ফরমুলেশন, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, সায়হাম টেক্সটাইল ও মালেক স্পিনিং।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৩০ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৪০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৯৭টির এবং ৩৬টির অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় নয় কোটি ৮২ লাখ টাকা।
