সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ঋণ আদায়, পুনর্গঠন ও সার্বিক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টের (বিআরডি) একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ব্যাংকটির একীভূতকরণ ও পুনর্গঠন, পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্বিন্যাস, মানবসম্পদ সমন্বয়, শাখা একীভূতকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিচালন কার্যক্রমের সমন্বয়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় জানানো হয়, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় খেলাপি ঋণ আদায়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্যাংকটি এরইমধ্যে প্রায় ১০ হাজার মামলা দায়ের করেছে। আরও কিছু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রচলিত আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি ঋণ আদায়ে এক্সিট পলিসি ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর)-সহ সমঝোতাভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যাংকটির পূর্ববর্তী মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সময়ে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি ও সম্পদ অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে পরিচালিত ফরেনসিক অডিট চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।
গত ছয় মাসে ব্যাংকটির পুনর্গঠন ও কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এর মধ্যে স্বতন্ত্র পরিচালকদের প্রাধান্য দিয়ে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন এবং গত ১৬ জুলাই থেকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোর প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস), সুইফট ও আরএমএ-সহ বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো একীভূত করার কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে আমানতকারীরা যাতে পাঁচটি ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে আমানতের অর্থ উত্তোলন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে একটি কমন ইন্টারফেস চালুর কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
শাখার অবস্থান, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, গ্রাহকসেবা ও পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় ৭৮০টি শাখা এবং ১ হাজার ৫০০টি বিজনেস ইউনিটের একীভূতকরণ, যৌক্তিকীকরণ ও পরিচালন সমন্বয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠন, ঋণ আদায়, মামলা নিষ্পত্তি, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, শাখা ও বিজনেস ইউনিট একীভূতকরণ এবং প্রযুক্তিগত সমন্বয় কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিআরডি নিয়মিতভাবে এসব কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও ফলোআপ করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এসব সমন্বিত উদ্যোগের ফলে ব্যাংকটির সুশাসন, পরিচালন দক্ষতা ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে, ঋণ আদায় ত্বরান্বিত হবে এবং পরিচালন ব্যয় কমবে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির আটকে থাকা অর্থ উৎপাদনশীল খাতে পুনঃপ্রবাহিত করা সম্ভব হবে।
৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধনসমৃদ্ধ রাষ্ট্র-মালিকানাধীন বাংলাদেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র সম্পদ ও আমানত ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করাকে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে।
