প্রবাসী আয়ে স্বস্তি, ছয় মাসে বেড়েছে ১৩.১ শতাংশ

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে স্বস্তি এনে চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। এ সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ১ হাজার ৮৯৪ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলারের তুলনায় ২২০ কোটি ডলার বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসেই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে। এর মধ্যে আগস্টে প্রবৃদ্ধি ছিল সর্বোচ্চ ২২ দশমিক ৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ডলার প্রবাসী আয়, যা আগের বছরের মার্চের ৩৩০ কোটি ডলারের তুলনায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। এপ্রিলে আসে ৩১৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

মে মাসে প্রবাসীরা পাঠান ৩৪৩ কোটি ডলার, যা এক বছর আগের একই মাসের তুলনায় ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। জুনে প্রবাসী আয় প্রায় স্থিতিশীল ছিল। এ মাসে আসে ২৮১ কোটি ডলার, যা আগের বছরের জুনে ছিল ২৮২ কোটি ডলার।

জুলাইয়ে আবার প্রবৃদ্ধির ধারা জোরালো হয়। এ মাসে দেশে আসে ২৮৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। আগস্টে আসে ২৯৬ কোটি ডলার, যা এক বছর আগের একই মাসের ২৪২ কোটি ডলারের তুলনায় ২২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। ফলে ছয় মাসের মধ্যে আগস্টেই সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

 

ছয় মাসে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রধান উৎস দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল সৌদি আরব। দেশটি থেকে এসেছে ৩০৮ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এরপর যুক্তরাজ্য থেকে ২৯৪ কোটি ২ লাখ ৭০ হাজার ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২২৬ কোটি ৭২ লাখ ২০ হাজার ডলার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৭১ কোটি ৬৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং মালয়েশিয়া থেকে ১৪৮ কোটি ৭০ লাখ ৬০ হাজার ডলার প্রবাসী আয় এসেছে।

চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই পাঁচ দেশ থেকেই বাংলাদেশ পেয়েছে মোট ১ হাজার ১৫০ কোটি ডলার প্রবাসী আয়, যা এ সময়ে দেশে আসা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বহিঃখাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি বৈধ ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন। তিনি বলেন, প্রবাসীদের জন্য বৈধ পথে অর্থ পাঠানো আরও সহজ, দ্রুত ও সুবিধাজনক করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। একই সঙ্গে হুন্ডিসহ অবৈধ পথে অর্থ লেনদেন নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে ১৯৭৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর মধ্য দিয়ে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে জনশক্তি রপ্তানির সূচনা হয়। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের অভিবাসন বিস্তৃত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতেও এ খাতের গুরুত্ব বেড়েছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স এখন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। বর্তমানে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন।