নাসা গ্রুপের সম্পত্তি নিলামে তুলল ন্যাশনাল ব্যাংক
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আলোকিত ডেস্ক
২ হাজার ২৩৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা বকেয়া ঋণ আদায়ে নাসা গ্রুপ ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর বন্ধকি সম্পত্তি নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি। অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ১২(৩) অনুযায়ী ব্যাংকের গুলশান শাখা এ লক্ষ্যে ছয়টি বন্ধকি সম্পত্তি নিলামে বিক্রির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। গত ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত নাসা গ্রুপের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ন্যাশনাল ব্যাংকের পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ২৩৮ কোটি ৯২ লাখ টাকায়। তবে এ অঙ্কের সঙ্গে পরবর্তী সময়ের সুদ ও ঋণ আদায়-সংক্রান্ত অন্যান্য খরচ যুক্ত হয়নি।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নাসা গ্রুপ ও এর বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ২০১১ সাল থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিরোজা গার্মেন্টস লিমিটেড, নেটিভ প্যাকেজেস লিমিটেড, লিজ ওয়াশ লিমিটেড, নাসা তাইপেই স্পিনার্স লিমিটেড এবং নাসা সুইং থ্রেড লিমিটেড। এসব প্রতিষ্ঠান এলসি, এলটিআর, দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ও ওভারড্রাফটসহ বিভিন্ন ধরনের ঋণসুবিধা গ্রহণ করেছিল। বিভিন্ন সময়ে এসব ঋণসুবিধা নবায়ন, পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিল করা হলেও শেষ পর্যন্ত ঋণ পরিশোধের পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ব্যাংক আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা ও গাজীপুরে অবস্থিত বেশ কয়েকটি মূল্যবান বন্ধকি সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে বকেয়া ঋণের একটি অংশ আদায়ের চেষ্টা করছে ব্যাংক। ন্যাশনাল ব্যাংক বর্তমানে উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ কমানো এবং তারল্য সংকট মোকাবিলায় জোরালো পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকের বৃহৎ অঙ্কের খেলাপি ঋণ হিসাবগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে এ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নাসা গ্রুপের পাশাপাশি বেক্সিমকোসহ অন্যান্য বড় করপোরেট ও ব্যবসায়িক গ্রুপের বকেয়া ঋণ আদায়ও ব্যাংকের বর্তমান পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ আদায়ের মাধ্যমে ব্যাংকের নগদ প্রবাহ বৃদ্ধি এবং আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৩৩(৫) ও ৩৩(৭)-এর আওতায় ব্যাংকের অনুকূলে প্রাপ্ত সম্পত্তিগুলোও দ্রুত নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব সম্পত্তি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে নিলামের আওতায় এনে নগদ অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ খেলাপি ঋণের চাপ ও তারল্য সংকটের মধ্যে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংকের জন্য বড় অঙ্কের ঋণ পুনরুদ্ধার এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বৃহৎ করপোরেট ঋণ হিসাব থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থ আদায় সম্ভব হলে ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। নিলামের জন্য নির্ধারিত সম্পত্তির বিস্তারিত তথ্য, শর্তাবলি এবং নিলাম-সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আগ্রহী ব্যক্তি ও সম্ভাব্য ক্রেতারা সেখান থেকে নিলামে অংশগ্রহণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। ব্যাংকের চলমান উদ্যোগের আওতায় বৃহৎ খেলাপি ঋণ হিসাব নিষ্পত্তি, বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রি এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঋণ আদায় কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমানো এবং তারল্য পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
