হেজিং সুবিধা চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের ওঠানামার ঝুঁকি কমাতে আমদানিকারকদের জন্য কমোডিটি প্রাইস রিস্ক হেজিং সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে সোমবার নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন ব্যবস্থার আওতায় অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো যোগ্য আমদানিকারকদের পণ্যের মূল্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সুবিধা দিতে পারবে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বাড়লে আমদানিকারকেরা এর মাধ্যমে আর্থিক ঝুঁকি কমাতে পারবেন। এতে ব্যবসার ব্যয় পরিকল্পনাও সহজ হবে।

পণ্যের দামের পরিবর্তনের কারণে ক্রেতা ও উৎপাদক উভয়েই আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকেন। তবে দাম বৃদ্ধি বা হ্রাসের প্রভাব উভয় পক্ষের জন্য একই রকম নয়। পণ্যের দাম বেড়ে গেলে ক্রয়মূল্য বেড়ে যায়। এতে ব্যবসার মুনাফা কমে যেতে পারে। আবার পণ্যের দাম কমে গেলে উৎপাদকেরা লোকসানের ঝুঁকিতে পড়েন।

এ বাস্তবতায় বিভিন্ন ধরনের হেজিং কৌশল ব্যবহার করে পণ্যের দামের ঝুঁকি কমানো যায়। এসব চুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতের দামের বিষয়ে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। ফলে ব্যবসার অনিশ্চয়তা কমে। ব্যবসার মুনাফায় যেসব পণ্যের দামের বড় ধরনের প্রভাব পড়ে তার মধ্যে আছে তেল, ইস্পাত কৃষিপণ্য ইত্যাদি। এসব পণ্যের দাম হ্রাস-বৃদ্ধির সঙ্গে উৎপাদন খরচ, পরিবহন ব্যয় ও ব্যবসার লাভ-ক্ষতির হিসাব বদলে যায়।

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রকৃত আমদানি দায়ের বিপরীতে যোগ্য আমদানিকারকেরা কমোডিটি ফিউচার, সোয়াপ, কমোডিটি সূচকভিত্তিক ফরোয়ার্ড চুক্তি, অপশনসহ আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত বিভিন্ন হেজিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারবেন।

কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য, জ্বালানি, ভোজ্যতেল, ধাতু, শস্য, সারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানিকারকেরা এ সুবিধার আওতায় আসবেন। আমদানিকারকেরা প্রকৃত আমদানি ঝুঁকির সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হেজ করতে পারবেন। তবে এ জন্য প্রয়োজনীয় দলিলপত্র সংরক্ষণ ও নির্ধারিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, হেজিং জল্পনামূলক ব্যবসার সুযোগ নয়; বরং এর উদ্দেশ্য হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের ওঠানামাজনিত ঝুঁকি কমানো। এডি ব্যাংকগুলোকে যথাযথ যাচাই, নথি সংরক্ষণ, ঝুঁকি প্রকাশ ও বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।