ডিজিটাল টিকিটিংয়ে স্বচ্ছতা ও পরিবহন পরিকল্পনায় সুযোগ

গোলটেবিল আলোচনা

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

শুধু কাগজের টিকিটের বিকল্প নয়, পুরো গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও তথ্যনির্ভর করতে ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তাদের মতে, ডিজিটাল টিকিটিংয়ের মাধ্যমে ভাড়ায় স্বচ্ছতা ও সরকারি রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি যাত্রী চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করে রুট পরিকল্পনা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা উন্নত করা সম্ভব। তবে এ জন্য শুধু প্রযুক্তি চালু করলেই হবে না। বিভিন্ন পরিবহন ও পেমেন্ট ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়, নিরাপদ লেনদেন, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং ডিজিটাল সেবায় অভ্যস্ত নন— এমন যাত্রীদের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে বলে তারা মনে করেন। বুধবার রাজধানীতে বেঞ্চমার্ক ডায়ালগ আয়োজিত 'ডিজিটাল টিকিটিং টু ট্রান্সফর্ম লাইভস' পাওয়ার্ড বাই সহজ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তারা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বেঞ্চমার্ক ডায়ালগের চেয়ারম্যান আশরাফ কায়সার।

স্বাগত বক্তব্য দেন সহজ ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কর্নেল (অব.) মো. আমিনুল হক এবং সাম্প্রতিক ডিজিটাল টিকিটিং নিয়ে আলোচনা করেন সহজ ডটকমের পরিচালক (টিকিট) শাকিল জোয়াদ রহিম।

সহজ ডটকমের সহযোগিতায় আয়োজিত আলোচনায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, পরিবহন মালিক, প্রযুক্তি ও আর্থিক সেবা খাত, যাত্রী কল্যাণ সংগঠন এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনার শুরুতে শ্যামলী পরিবহনের পরিচালক রজত ঘোষ বলেন, পরিবহন খাতের প্রকৃতিই হলো সব সময় চলমান থাকা। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ খাত অনেকটা এলোমেলোভাবে পরিচালিত হয়েছে। টিকিটিং ব্যবস্থাকে শতভাগ ডিজিটাল করা গেলে খাতে শৃঙ্খলা আনা সম্ভব।

তিনি বলেন, ঈদ ও বিভিন্ন উৎসবের সময় অনলাইনে টিকিটের চাহিদা বাড়লেও স্বাভাবিক সময়ে অনেক যাত্রী এখনো কাউন্টার থেকে টিকিট কাটেন। যত্রতত্র কাউন্টার না রেখে টার্মিনালভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে টিকিটিং পুরোপুরি ডিজিটাল করা সহজ হবে।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ও উদ্যোক্তা ফজলুল হক বলেন, অনলাইন টিকিটিংয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নীতিগতভাবে বড় কোনো বাধা নেই। সরকার এ বিষয়ে সক্রিয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও যুক্ত রয়েছে।

তবে কাউন্টারে টিকিটের দাম নিয়ে দরকষাকষির সুযোগ থাকায় অনেক যাত্রী অনলাইনে যেতে আগ্রহী হন না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) উপমহাব্যবস্থাপক শুকদেব ঢালী বলেন, বিআরটিসির টিকিটিং ব্যবস্থা ডিজিটাল করার কাজ দীর্ঘদিন ধরে চলছে। পিংক বাসে ইতিমধ্যে পুরোপুরি অনলাইন টিকিটিং চালু হয়েছে। ডিজিটাল টিকিটিংয়ের মাধ্যমে যাত্রী নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধ করলে তা সরকারি কোষাগারে যথাযথভাবে যাওয়ার বিষয়ে আস্থা তৈরি হয়। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো সম্ভব।

বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ বলেন, বাংলাদেশ ডিজিটালাইজেশনে পুরোপুরি পিছিয়ে নেই; বরং কার্যকর ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের ঘাটতি রয়েছে। শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে কাজে লাগাতে হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ও অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, কর দেওয়া, ব্যাংকিং ও সরকারি বিভিন্ন সেবা যখন অনলাইনে যাচ্ছে, তখন পরিবহন খাতকেও সংগঠিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। যাত্রীদের জন্য সেবা সহজ ও ঝামেলামুক্ত করার পাশাপাশি তথ্যের নিরাপত্তা, মূল্য নির্ধারণ ও ডিজিটাল ডিভাইসে প্রবেশাধিকারের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।