বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল থাকার প্রত্যাশা এডিবির
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল থাকবে বলে প্রত্যাশা করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এডিবির সর্বশেষ প্রতিবেদন 'এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) সেপ্টেম্বর ২০২৬'-এ গতকাল বুধবার এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তিশালী রেমিট্যান্স ও উচ্চ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাহ্যিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। তবে এই স্থিতিশীলতা বজায় রাখা নির্ভর করবে পর্যাপ্ত আর্থিক প্রবাহ, বিনিময় হারের নমনীয়তা ও বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে সেবা ও কৃষি খাত প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে, তবে এই পুনরুদ্ধার এখনও বৈদেশিক অভিঘাত ও অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার ঝুঁকিতে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক পরিবেশের ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। ঝাং বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে এ সংস্কারগুলো অপরিহার্য।
তিনি বলেন, এ সংস্কারগুলোকে জনগণের জন্য দৃশ্যমান ফলাফলে রূপান্তরিত করতে বাংলাদেশকে সহায়তা করার জন্য এডিবি প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ৪ দশমিক ০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিছুটা ধীর হয়ে পড়েছিল, যদিও এর প্রভাব সীমিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রবৃদ্ধির এ উন্নত পূর্বাভাসটি শক্তিশালী ভোগ ও বিনিয়োগের প্রতিফলন, কারণ ২০২৬ সালের শুরুর দিকে সাধারণ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে এসেছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ১০ দশমিক ০ শতাংশ থেকে মূল্যস্ফীতি ২০২৬ অর্থবছরে আনুমানিক ৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে এটি বেড়ে ৯ দশমিক ০ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, সম্ভাব্য নৌপথে পণ্য পরিবহন বিঘ্ন, খাদ্যমূল্যের ওপর এল নিনোর বিলম্বিত প্রভাব ও মুদ্রানীতি ধীরে ধীরে শিথিল হওয়ার কারণে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকার আশঙ্কা।
আমদানি প্রবৃদ্ধি রপ্তানি প্রবৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে চলতি হিসাবের ঘাটতি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ০ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।
২০২৬ অর্থবছরে এ ঘাটতি আনুমানিক ০ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেমিট্যান্সের সহায়তায় ব্যক্তিগত ভোগব্যয় প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকায় পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা কমতে থাকবে।
এডিবি হলো একটি শীর্ষস্থানীয় বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক, যা এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিস্থাপক প্রবৃদ্ধির জন্য সহায়তা প্রদান করে।
