বাংলাকিউআরে ৯০ দিনে লেনদেন বেড়েছে সাড়ে ৩ গুণ
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে আন্তঃসংযুক্ত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের ফলে বাংলাকিউআরভিত্তিক লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত ৯০ দিনে বাংলাকিউআর লেনদেনের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ গুণ ও লেনদেনের অর্থমূল্য প্রায় ৫ গুণ বেড়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে চালু হবে পারসন-টু-পারসন (পিটুপি) লেনদেন। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসাইন খান এ তথ্য জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) গ্রাহকরা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে দেশব্যাপী প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্টে বাংলাকিউআর স্ক্যান করে অর্থ পরিশোধের সুযোগ পাচ্ছেন।
২০২৬ সালের জুনে দৈনিক গড়ে ১ লাখ বাংলাকিউআর পেমেন্ট সম্পন্ন হতো, যার অর্থমূল্য ছিল গড়ে ২৮ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ বাংলাকিউআর পেমেন্ট হচ্ছে, যার অর্থমূল্য প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে দেশীয় বাংলাকিউআরের মাধ্যমে লেনদেন সম্প্রসারণে ১ জুলাই থেকে সব ধরনের প্রোপ্রাইটারি কিউআরের স্থলে বাংলাকিউআর প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাকিউআর লেনদেনের পারফরম্যান্স, প্রচার ও মূল্য নির্ধারণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আজ ১ অক্টোবর থেকে বাংলাকিউআরভিত্তিক পেমেন্ট গ্রহণে মার্চেন্টদের উৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট হিসাবে অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে প্রদান করা হবে। একই সময় থেকে বাংলাকিউআর পেমেন্টে অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) সর্বোচ্চ ১ শতাংশ নির্ধারণ ও ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের ইন্টারচেঞ্জ রিইমবার্সমেন্ট ফি (আইআরএফ) শূন্য করা হয়েছে। ফলে বাজার পর্যায়ে বাংলাকিউআর পেমেন্টের খরচ কমবে। এদিকে সেপ্টেম্বর মাসে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে গড় লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে ৪ হাজার ১০১ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা জুনে ছিল ২ হাজার ৮০০ টাকা।
আরিফ হোসাইন খান বলেন, আগামী ১ নভেম্বর থেকে বাংলাকিউআর কোডভিত্তিক পারসন-টু-পারসন (পিটুপি) লেনদেন চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের বাংলাকিউআর স্ক্যান করে বা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে ছবি আপলোড করে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন।
গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে ব্যর্থ বাংলাকিউআর লেনদেনের অর্থ দ্রুততম সময়ে ফেরতের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর পৃথক গাইডলাইন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
