আজ শুরু হচ্ছে কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল

* আয়োজনে রয়েছে রাখাইন নৃত্য, লাইভ কনসার্ট, ঘুড়ি উৎসব এবং বিচ স্পোর্টস * দর্শনার্থীদের জন্য সৈকতসংলগ্ন মাঠে রয়েছে বিশেষ আয়োজন; যেখানে থাকছে হস্তশিল্প, রাখাইনদের তৈরি পোশাক, সামুদ্রিক মাছের শুঁটকিসহ নানা পণ্যের সমাহার

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  গাজী মুনছুর আজিজ

পটুয়াখালীর সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটায় আজ থেকে শুরু হচ্ছে 'কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল'। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত এ পর্যটন নগরীকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে বিশেষ এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের আয়োজনে এবং কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সার্বিক সহযোগিতায় আজ ও আগামীকাল— দুই দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

কার্নিভালের মূল আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী রাখাইন নৃত্য, দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে লাইভ কনসার্ট, ঘুড়ি উৎসব এবং বিচ স্পোর্টস। এ ছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য সৈকত সংলগ্ন মাঠে রয়েছে বিশেষ আয়োজন; যেখানে থাকছে হস্তশিল্প, রাখাইনদের তৈরি পোশাক, সামুদ্রিক মাছের শুঁটকিসহ নানা পণ্যের সমাহার।

আজ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কার্নিভালের উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। উদ্বোধন শেষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালির মাধ্যমে উৎসবের সূচনা করা হবে; যা সৈকতের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান। এ ছাড়া বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহও উপস্থিত থাকবেন। কুয়াকাটাকে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ কার্নিভালের মূল উদ্দেশ্য হলো— কুয়াকাটার অপার সম্ভাবনাকে বিশ্বমঞ্চে এবং দেশের মানুষের কাছে নতুন করে তুলে ধরা।

কুয়াকাটায় সদ্যযাত্রা শুরু করা আন্তর্জাতিকমানের হোটেল 'প্রেসিডেন্ট পার্ক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট'-এর জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোরশেদ বলেন, এ কার্নিভাল আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুয়াকাটাকে বিশ্ব দরবারে নতুন করে পরিচিত করার এক অনন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা শুধু কুয়াকাটার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকেই বিশ্বের মানুষের কাছে তুলে ধরছি না, বরং এখানকার হসপিটালিটি বা অতিথি সেবার মানকেও আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করার আপ্রাণ চেষ্টা করছি। দেশি-বিদেশি সকল পর্যটক যেন এখানে এসে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্বস্ত সেবা ও আতিথেয়তা পান, তা নিশ্চিত করতে আমরা সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও সী মেইডেনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনির হোসেন কাজী বলেন, এ কার্নিভালকে কেন্দ্র করে এরইমধ্যে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল নেমেছে। অধিকাংশ হোটেল-মোটেলের কক্ষ অনেক আগেই বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও পর্যটন উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ খালেদ সাইফুল্লাহ মাহমুদ বলেন, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা কুয়াকাটা বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের এক সম্ভাবনাময় গন্তব্য। এ ধরনের কার্নিভাল কুয়াকাটার সম্ভাবনা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা, আধুনিক অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে কুয়াকাটা বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এতে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটবে।