ফল আমদানিতে শুল্ক-কর কমানোর সুপারিশ

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে আমদানি করা বিদেশি ফলের বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক-কর কাঠামো প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। কমিশন বলছে, বিলাসদ্রব্যের মতো অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করায় সাধারণ মানুষের পুষ্টি ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া বৈধ উপায়ে আমদানি কমে যাওয়ায় সরকারের রাজস্ব আয়ে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। গত মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে তাজা ফলের শুল্ক-কর কাঠামো পর্যালোচনা সংক্রান্ত এ প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এটি শিগগিরই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।

ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছর থেকেই তাজা ফল— আপেল, কমলা, ম্যান্ডারিন, আঙুর, নাশপাতি ও আনার আমদানিতে ধারাবাহিকভাবে শুল্ক-কর বাড়ানো হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে মোট শুল্ক-কর হার ছিল ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ, তা বাড়িয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ করা হয়েছে। শুল্ক বৃদ্ধির কারণে ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে মোট আমদানির পরিমাণ ছিল ৮ লাখ টন, তা কমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৭১ লাখ টনে নেমে এসেছে। তবে আমদানি কমলেও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়া এবং উচ্চ শুল্কের কারণে এ সময়ে রাজস্ব আহরণ দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। তবে কমিশন পর্যবেক্ষণে বলেছে, শুল্ক বাড়িয়ে নয়, আমদানির পরিমাণ বাড়িয়েও আগের মতো রাজস্ব আদায় করা সম্ভব। কারণ শুল্ক কমলে ভোক্তা পর্যায়ে ফলের দাম কমবে এবং চাহিদা আগের মতো বাড়বে। প্রতিবেশি দেশের তুলনায় বাংলাদেশে শুল্ক সর্বোচ্চপ্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনামূলক চিত্রে দেখা গেছে, ফল আমদানিতে সবচেয়ে বেশি শুল্ক গুনতে হচ্ছে বাংলাদেশকেই। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ফল আমদানিতে শুল্ক প্রায় ৬০ শতাংশ, পাকিস্তানে ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ এবং নেপালে মাত্র ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশে এই হার ১২১ শতাংশের বেশি, যা আমদানিকারক ও ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। পাইকারি ও খুচরা মূল্যের ব্যবধানে অস্বস্তিপ্রতিবেদনে বাজারের অসংগতিও তুলে ধরা হয়েছে।