হংকংয়ে তুলে ধরা হলো পোশাক খাতের সক্ষমতা

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের বৈচিত্র্য ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা তুলে ধরতে হংকংয়ে 'বাংলাদেশ অ্যাপারেল রোডশো' আয়োজন করেছে এইচএসবিসি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। ২৮ অক্টোবর হংকংয়ের আইল্যান্ড শাংরি-লা হোটেলে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে আন্তর্জাতিক ক্রেতা, পণ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, পোশাক প্রস্তুতকারক ও খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ ১৩০ জনের বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। হংকংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

রোডশোতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা, নতুন বাজার ও পণ্য সংগ্রহের সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া পণ্যের বহুমুখীকরণ, উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এইচএসবিসির গ্লোবাল নেটওয়ার্ক ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান অলিভার টি জোনসের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে বক্তব্য দেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং হংকংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর। অনুষ্ঠানে মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. রুবানা হক 'হোয়াই বাংলাদেশ: লেগ্যাসি অ্যান্ড দ্য ফিউচার' শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ধারাবাহিক পরিবর্তন, অর্জন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

রোডশোতে 'কেন বাংলাদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ করবেন' এবং 'ক্রেতাদের দৃষ্টিকোণ থেকে' শীর্ষক দু'টি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এইচএসবিসি, বিজিএমইএ, আন্তর্জাতিক পণ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান ও শিল্প বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। আলোচনায় বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা, ক্রেতাদের প্রত্যাশা, পরিবেশগত মানদণ্ড, পণ্য সংগ্রহের নতুন প্রবণতা এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে দেশীয় প্রস্তুতকারকদের অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয় উঠে আসে।

এ ছাড়া 'দ্য বাংলাদেশ কালেক্টিভ' শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের পোশাকের বৈচিত্র্য, উদ্ভাবন ও আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি তুলে ধরা হয়। পরে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা হয়।

হংকংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর বলেন, উৎপাদন সক্ষমতা, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ, টেকসই উৎপাদনে অগ্রগতি এবং কৌশলগত বাণিজ্য সুবিধার কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশের পোশাকশিল্প নিজেদের মানিয়ে নেওয়া, উদ্ভাবন ও অগ্রগতির সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।

এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প এখন শুধু বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং উচ্চমূল্যের পণ্য, উদ্ভাবন, টেকসই উৎপাদন ও দক্ষতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পণ্যের বহুমুখীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈশ্বিক পোশাকশিল্পে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা এখন আন্তর্জাতিক ক্রেতারা সরাসরি দেখতে ও যাচাই করতে পারছেন। মূল্য সংযোজন, পণ্যের বৈচিত্র্য ও টেকসই উৎপাদনের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে তিনি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।