বন্ধ শিল্পের ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ তহবিলে নীতিমালা পরিবর্তন
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ স্কিমের অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নিয়মে এখন থেকে ব্যাংকগুলো নিজেদের তহবিল থেকে গ্রাহককে ঋণ বিতরণ করবে। পরে বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে পুনঃঅর্থায়নের আবেদন করতে হবে। আগে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে গ্রাহককে ঋণ দেওয়ার বিধান ছিল। এ জন্য 'বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক্?-অর্থায়ন স্কিম'-এর নাম পরিবর্তন করে 'বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক পুনঃঅর্থায়ন স্কিম' করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণ বিতরণ, অনুমোদন ও পুনঃঅর্থায়নের আবেদন প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কিমের আওতায় ঋণ বিতরণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ অথবা পর্ষদ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। ঋণ বিতরণের পরবর্তী সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্রসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩-এর পরিচালকের কাছে পুনঃঅর্থায়নের আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে আবেদন করা সম্ভব না হলে উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করে পরবর্তী আরও ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া কোনো ঋণগ্রহীতা যে ব্যাংক থেকে প্রকল্প ঋণ নিয়েছেন, সেই ব্যাংক থেকেই এ স্কিমের আওতায় ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। ঋণের অর্থের সব ধরনের লেনদেন গ্রাহকের এসক্রো অথবা রেভিনিউ হিসাবের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রকল্পের আয় হিসাব খোলার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আগের নির্দেশনাও অনুসরণ করতে হবে।
ঋণগ্রহীতার বিষয়ে যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত যুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঋণ প্রত্যাশী গ্রাহক অতীতে অর্থপাচার, জালিয়াতি, তহবিল অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়া কিংবা ঋণের অর্থ অপব্যবহার করেননি- এ মর্মে ব্যাংককে তাঁর কাছ থেকে ঘোষণাপত্র নিতে হবে।
প্রাক্?-অর্থায়ন ও পুনঃঅর্থায়নের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো অর্থ ছাড়ের সময় ও প্রক্রিয়ায়। প্রাক্?-অর্থায়ন ব্যবস্থায় কোনো ব্যাংক গ্রাহককে ঋণ দেওয়ার আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে অর্থ পায়। এরপর সেই অর্থ গ্রাহককে ঋণ হিসেবে বিতরণ করে। অর্থাৎ, এ ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ আগে ব্যাংকের হাতে আসে, পরে গ্রাহক ঋণ পান।
অন্যদিকে পুনঃঅর্থায়ন ব্যবস্থায় ব্যাংক প্রথমে নিজস্ব তহবিল থেকে গ্রাহককে ঋণ দেয়। পরে বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে পুনঃঅর্থায়নের আবেদন করে। আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পর বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ ছাড় করে। ফলে ঋণ বিতরণের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। তবে প্রাথমিকভাবে ঋণের অর্থের সংস্থান করতে হয় সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে।
বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত পুনরায় চালু করতে গত ৪ জুন ২০ হাজার কোটি টাকার এ স্কিম গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রয়োজনীয় চলতি মূলধনের অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী পরিচালিত হতে না পারা শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কম সুদে অর্থায়ন করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য।
এ স্কিমের আওতায় পাওয়া ঋণের অর্থ দিয়ে কাঁচামাল কেনা, শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল এবং উৎপাদন ব্যয় মেটানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। তিন বছরের জন্য আবর্তনযোগ্য তহবিল হিসেবে গঠিত এ স্কিমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর ৪ শতাংশ সুদে অর্থ পাওয়ার এবং গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার বিধান রয়েছে।
তবে শুরু থেকেই স্কিমটির বাস্তবায়ন ও ঋণ বিতরণে ধীরগতি দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ স্কিমের আওতায় ৫৬০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আরও ৯২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার ঋণ প্রক্রিয়াধীন ছিল।
