হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর মর্যাদা
মুফতি আবুল কাসেম
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২২, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এ পৃথিবীতে যত নবী-রাসুল আগমন করেছেন, তন্মধ্যে আমাদের প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-ই সবার সেরা। তাঁর সম্মান ও মর্যাদা বর্ণনা করতে গিয়ে স্বয়ং আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আপনি সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী।’ (সুরা কলম : ৪)। শুধু মুসলিম নয়, অমুসলিমরাও তাঁকে উত্তম চরিত্রের অধিকারী মনে করত। বিশ্বাস করত তাঁকে সত্যবাদী ও আমানতদার হিসেবে। ডাকত তাঁকে আল-আমিন (বিশ্বস্ত) বলে। তাঁর আগমনে জগৎ হয়েছে আলোকিত। পথ পেয়েছে বহু পথভোলা মানুষ। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ দিয়েছে মানবতার মুক্তি ও কল্যাণ। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই তাঁর কাছে পেয়েছে তাদের আশার বাণী।
আল্লাহতায়ালা তাঁকে সারা বিশ্বের জন্য রহমতের প্রতীক হিসেবে পাঠিয়েছেন। এরশাদ হয়েছে- ‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া : ১০৭)। একমাত্র তাঁকেই অনন্য পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে, যা আর কাউকে দেওয়া হয়নি। প্রিয়নবী (সা.) বলেন, ‘আমাকে পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আমার আগে কোনো নবীকে দান করা হয়নি। ১. আমাকে সাহায্য করা হয়েছে শত্রুর অন্তরে ভয়ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে। ২. সমগ্র ভূপৃষ্ঠ আমার জন্য সালাত আদায়ের স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম বানানো হয়েছে। কাজেই আমার উম্মতের যে কেউ যেখানে সালাতের ওয়াক্ত হয় (সেখানেই) যেন সালাত আদায় করে নেয়। ৩. আমার জন্য গনিমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) হালাল করা হয়েছে। ৪. অন্যান্য নবী নিজেদের বিশেষ গোত্রের প্রতি প্রেরিত হতেন আর আমাকে সমগ্র মানব জাতির প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে। ৫. আমাকে সর্বজনীন সুপারিশের অধিকার প্রদান করা হয়েছে।’ (বোখারি : ৪৩৮)।
হাশরের ময়দানে রাসুল (সা.) মর্যাদার যে সুমহান স্থান লাভ করবেন, তার নাম মাকামে মাহমুদ। যেখানে দাঁড়িয়ে তিনি সুপারিশ করবেন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আপনি রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ুন! এটা আপনার জন্য অতিরিক্ত। আশা করা যায়, আপনার পালনকর্তা আপনাকে অধিষ্ঠিত করবেন মাকামে মাহমুদে।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ৭৯)।
সেদিন তাঁকে হাউসে কাওসারের সার্বিক অধিকারও দেওয়া হবে। প্রিয়নবী (সা.) একদিন সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা কি জান কাওসার কী? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘তা এমন একটি পানির ঝরনা, যা আমার রব জান্নাতে সৃষ্টি করে রেখেছেন। তাতে অসংখ্য কল্যাণ রয়েছে। আমার উম্মত কেয়ামাতের দিন সেখানে উপস্থিত হবে। এর পানপাত্রের সংখ্যা হবে (আকাশের) তারকার সমপরিমাণ।’ (সুনানে আবু দাউদ : ৪৭৪৭)।
রাসুলে কারিম (সা.) এর সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‘আমি আপনার খ্যাতিকে উচ্চ মর্যাদা দান করেছি।’ (সুরা ইনশিরাহ : ৪)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন আমি আদম সন্তানদের নেতা হবো, এতে আমার কোনো অহংকার নেই। হামদের (প্রশংসার) পতাকা আমার হাতেই থাকবে, এতেও কোনো গর্ব নেই। সেদিন সব নবী-রাসুল আমার পতাকাতলে থাকবেন। সর্বপ্রথম আমার জন্য মাটিকে বিদীর্ণ করা হবে, এতেও কোনো অহংকার নেই।’ (তিরমিজি : ৩৬১৫)। আল্লাহ আমাদের এ মহামানবের ইজ্জত রক্ষা করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া ইসলামিয়া হামিদিয়া বটগ্রাম, সুয়াগাজী, সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা
