মসজিদে নববিতে জুমার খুতবা
ইসরা ও মিরাজের তাৎপর্য
শায়খ ড. আলি বিন আবদুর রহমান আল হুজাইফি
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইসরা আল্লাহর বড় নিদর্শনগুলোর একটি। মিরাজ ইসরার চেয়েও বড় নিদর্শন। আল্লাহ এই ঘটনার মাধ্যমে তাঁর প্রিয় বান্দা মুহাম্মাদ (সা.)-কে বিশেষ সম্মান দিয়েছেন। এর দ্বারা তিনি নবীজির সব দুঃখ-কষ্ট ও চিন্তা দূর করে দিয়েছেন। ইসরার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁকে সব রকম কষ্ট, বিপদ, দুঃখ আর আল্লাহর পথে দাওয়াত দিতে গিয়ে যে ভয়ংকর নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছিল, সব কিছু ভুলিয়ে দেন। ইসরার আগের সময়টা ছিল খুব কঠিন। অল্প সময়ের মধ্যেই মহানবী (সা.)-এর ওপর একের পর এক দুঃখ নেমে আসে। মানুষ তাঁকে নিয়ে উপহাস করত, অপমান করত। তাঁর প্রিয় স্ত্রী খাদিজা (রা.) ইন্তেকাল করেন, যিনি ছিলেন তাঁর শান্তির আশ্রয়, সত্যিকারের সহকারী, কঠিন সময়ে সান্ত¡নাদাত্রী ও নিজের সম্পদ দিয়ে সাহায্যকারী। একই বছরে তাঁর চাচা আবু তালিবও মারা যান, যিনি তাঁকে শত্রু ও অত্যাচারীদের হাত থেকে রক্ষা করতেন।
নবী (সা.)-কে আকাশে উঠানোর মানে হলো, ইসলাম চিরকাল উচ্চে থাকবে। ইসলাম সব কিছুর ওপর বিজয়ী, কেউ ইসলামের ওপরে উঠতে পারবে না। যেমনভাবে মহানবী (সা.) এমন উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছেছেন, যেখানে আগে কোনো রাসুল পৌঁছাননি। তাই ধন্য তারা, যারা তাঁকে সাহায্য করেছে; আর দুর্ভোগ তাদের, যারা তাঁর বিরোধিতা করেছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তিনি কাফিরদের কথা হেয় করেন। আল্লাহর কথাই সর্বোপরি। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা তওবা : ৪০)।
আল্লাহতায়ালা ইসরার ঘটনার শুরুতেই বলেন, ‘পবিত্র ও মহিমময় তিনি যিনি তাঁর বান্দাকে রজনীতে ভ্রমণ করিয়েছিলেন আল-মসজিদুল হারাম হতে আল-মসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার পরিবেশ আমি করেছিলাম বরকতময়, তাকে আমার নিদর্শন দেখাবার জন্যে; তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ১)।
মহান আল্লাহ যখন নিজের পবিত্রতা, মহিমা, শক্তি ও পরিপূর্ণ ক্ষমতার কথা প্রকাশ করেন, তখন তিনি নিজের প্রশংসা ‘সুবহানাল্লাহ’ দিয়ে শুরু করেন। যেমন তিনি বলেন, ‘অতএব পবিত্র ও মহান তিনি, যার হস্তেই প্রত্যেক বিষয়ের সর্বময় কর্তৃত্ব; আর তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।’ (সুরা ইয়াসিন : ৮৩)।
ইসরা আল্লাহর এক বিস্ময়কর কাজ ও বড় নিদর্শনগুলোর একটি। এটি আমাদের শেখায় যে, আল্লাহ সব রকম তুলনা থেকে পবিত্র। তাঁর সত্তা, গুণাবলি বা কাজে তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই। আল্লাহর ক্ষমতার বাইরে কোনো সময় নেই, কোনো দূরত্ব নেই। সব জায়গাই আল্লাহর মালিকানাধীন ও তাঁর নিয়ন্ত্রণে। তিনি চাইলে অল্প সময়কে অনেক কাজের জন্য যথেষ্ট করে দেন, আবার অতি দূরত্বকে মুহূর্তেই অতিক্রমযোগ্য করেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ এমন নন যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর কোন কিছু তাঁকে অক্ষম করতে পারে; তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।’ (সুরা ফাতির : ৪৪)।
ইসরার রাতে মানবজাতির শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর জন্য এক বিশেষ সম্মানজনক অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে তাঁর বুদ্ধি, মন, হৃদয় ও আত্মা আরও পূর্ণতা লাভ করে, তাঁর শরীর শক্তিশালী হয় ও ঈমান আরও দৃঢ় হয়। আনাস (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আমি যখন হিজরের ভেতর শুয়ে ছিলাম, তখন একজন আগন্তুক এল, আমার বুক চিরে হৃদয় বের করল। তারপর সোনার পাত্রে ভরা ঈমান দিয়ে আমার হৃদয় ধুয়ে আবার ভরে দেওয়া হলো।’ (বোখারি : ৩৮৮৭)।
এটি ছিল এক অলৌকিক ও পূর্ণতাদানকারী অস্ত্রোপচার, যাতে কোনো ব্যথা ছিল না। এর মাধ্যমে বিশ্বনবী (সা.) মানবীয় পরিপূর্ণতার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছান। যেন তিনি আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও তাঁর সঙ্গে কথোপকথনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হন। আসমানের ফেরেশতারা তাঁকে সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল হিসেবে সম্মান জানায়। আর কেয়ামতের দিন মহান শাফাআতের বিশেষ অধিকারও তাঁকেই দেওয়া হবে। এই অস্ত্রোপচারটি তাঁর শৈশবে বুক চিরে দেওয়ার ঘটনার মতোই, যেখানে তাঁর হৃদয় থেকে একটি রক্তপি- বের করে বলা হয়েছিল, এটাই মানুষের মধ্যে শয়তানের অংশ।
ইসরার নির্ধারিত সময় এলে নবী (সা.) বলেন, ‘তখন আমার কাছে একটি বাহন আনা হলো, যা খচ্চরের চেয়ে ছোট ও গাধার চেয়ে বড়, সাদা রঙের। এটিই ছিল ‘বুরাক’। এটি এক লাফে যতদূর চোখ যায়, ঠিক ততদূর পৌঁছে যেত।’ (বুখারি)। আনাস (রা.) বলেন, জিবরাইল (আ.) আমাকে বুরাকে উঠিয়ে আমার সঙ্গে চললেন। তিনি কখনও আমার থেকে পিছিয়ে পড়েননি, আমিও তাঁর থেকে এগিয়ে যাইনি।
আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, নবী (সা.) যখন বাইতুল মুকাদ্দাসে পৌঁছালেন, তখন তিনি বুরাককে সেই আংটার সঙ্গে বেঁধে দিলেন, যেখানে আগের নবীরা তাঁদের বাহন বাঁধতেন। এরপর তিনি বাইতুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করে কিবলার দিকে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন। বুরাক বাঁধা অবস্থায়ই রইল, যেন পরে তা দিয়ে মক্কায় ফিরে যাওয়া যায়। মহানবী (সা.) বলেন, ‘বাইতুল মুকাদ্দাসে আমার কাজ শেষ হলে আমাকে মিরাজ আনা হলো। আমি এর চেয়ে সুন্দর কিছু কখনো দেখিনি। মৃত্যুপথযাত্রী মানুষ যেভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে, এটিও তেমন ঊর্ধ্বে উঠেছিল। এরপর জিবরাইল আমাকে এতে উঠালেন।’
নবী (সা.) প্রথমে দুনিয়ার আকাশে ওঠেন, তারপর দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম আকাশে যান। প্রতিটি আকাশে তিনি একজন করে নবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রথম আকাশে আদম (আ.) তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘সৎ সন্তান ও সৎ নবীকে স্বাগতম। এরপর দ্বিতীয় আকাশে ঈসা (আ.) ও ইয়াহইয়া (আ.), তৃতীয় আকাশে ইউসুফ (আ.), চতুর্থ আকাশে ইদরিস (আ.), পঞ্চম আকাশে হারুন (আ.), ষষ্ঠ আকাশে মুসা (আ.), সপ্তম আকাশে ইবরাহিম (আ.)। তিনি বলেন, ‘সৎ নবী ও সৎ সন্তানকে স্বাগতম।’ সব নবীই তাঁকে সালাম দেন, সম্মান জানান এবং সৎ নবী ও সৎ ভাই বলে প্রশংসা করেন। এরপর মহানবী (সা.)-কে সিদরাতুল মুনতাহায় ওঠানো হয়। ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, সে গাছটি ছিল অপরূপ সৌন্দর্যে ভরা। নানা রঙের আলোয় ঢাকা ছিল। অসংখ্য ফেরেশতা পাখির মতো গাছে অবস্থান করছিলেন। সেখানে সোনালি আলো ও আল্লাহর নুর এমনভাবে ছড়িয়ে ছিল যে, কোনো মানুষ তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবে না।
এরপর মহানবী (মা.) সব স্তর অতিক্রম করে এমন এক উচ্চ স্থানে পৌঁছান, যেখানে কলমের লেখার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। সেই রাতে আল্লাহতায়ালা মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, কোনো মাধ্যম ছাড়াই। তখন আল্লাহ দিনে ও রাতে ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেন। এরপর নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসা (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনাকে কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?’ নবী (সা.) বললেন, ‘৫০ ওয়াক্ত নামাজ।’
মুসা (আ.) নবীজিকে বনি ইসরায়েলের কথা শুনান। নামাজ কমিয়ে আনতে বলেন। পরে পাঁচ ওয়াক্ত নিয়ে আসেন। (বোখারি)।
এরপর মহানবী আবার বাইতুল মুকাদ্দাসে ফিরে সেখানে সব নবীকে নিয়ে জামাতে নামাজ পড়ান। জিবরাইল (আ.)-এর নির্দেশে তিনি ইমামতি করেন। এটি প্রমাণ করে যে, নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর শরিয়ত আগের সব শরিয়তের ওপর চূড়ান্ত। মহানবী (সা.) আল্লাহর রাজত্ব ও নিদর্শন এমনভাবে দেখেন, যা আগে কোনো নবী দেখেননি। এরপর তিনি বুরাকে চড়ে মক্কায় ফিরে মানুষকে পুরো ঘটনা জানান। মুমিনরা বিশ্বাস করে আরও ঈমানে দৃঢ় হয়, আর অবিশ্বাসীরা অস্বীকার করে। বিশ্বনবী (সা.) ইসরার সত্যতার প্রমাণ দেন। তিনি বাইতুল মুকাদ্দাসের এমন নিখুঁত বর্ণনা দেন, যা তিনি আগে কখনও দেখেননি।
ইসরার ঘটনায় মহানবী (সা.)-এর সত্যতার আরেকটি বড় প্রমাণ হলো, তিনি মক্কার লোকদের এমন কিছু ঘটনার কথা জানালেন, যা তিনি পথেই দেখে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা অমুক গোত্রের উটের কাফেলার পাশ দিয়ে গিয়েছিলাম অমুক উপত্যকায়। তাদের একটি উট পালিয়ে গিয়েছিল। আমি তাদের সেই উটের জায়গা দেখিয়ে দিয়েছিলাম, তখন আমি শামের দিকে যাচ্ছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘এরপর আমি যখন মক্কার উপকণ্ঠে থাকা দাজনান নামের একটি পাহাড়ের কাছে পৌঁছাই তখন আরেক গোত্রের উটের কাফেলার পাশ দিয়ে যাই। আমি দেখি তারা সবাই ঘুমাচ্ছে। তাদের কাছে একটি পানির পাত্র ছিল, যা ঢেকে রাখা ছিল। আমি ঢাকনা খুলে পানি পান করলাম, তারপর আগের মতোই ঢেকে দিলাম। এর প্রমাণ হলো, তাদের কাফেলা এখন তানঈমের সাদা পাহাড়ের দিক দিয়ে আসছে। সামনে থাকবে ধূসর রঙের একটি উট, যার ওপর দুটি থলে থাকবে। একটি কালো আর অন্যটি ছোপ ছোপ রঙের।’
তিনি আরও জানান, ওই কাফেলা সূর্য ওঠার সময়ই মক্কায় পৌঁছাবে। লোকজন সূর্য ওঠার অপেক্ষায় ছিল। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই তারা দেখল, ঠিক যেমন মহানবী (সা.) বলেছেন, তেমনভাবেই উটের কাফেলা এসে হাজির হলো, আর সামনের উটটির রূপও ঠিক তাঁর বর্ণনার মতোই ছিল। মহানবী (সা.) আরও বলেন, ‘আমরা কুরাইশদের একটি কাফেলার পাশ দিয়েও গিয়েছিলাম। তারা একটি উট হারিয়ে ফেলেছিল। আমি তাদের সালাম দিয়েছিলাম। তখন তারা একে অপরকে বলছিল, এ তো মুহাম্মাদের কণ্ঠস্বর!’ তবে সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো, মহানবী (সা.) নিজেই ইসরা ও মিরাজের ঘটনা জানালে সাহাবিরা তা নিঃশর্তভাবে বিশ্বাস করলেন। তাঁদের মধ্যে প্রথম ছিলেন আবু বকর (রা.)। তিনি বলেন, ‘যদি মুহাম্মাদ (সা.) এটি বলে থাকেন, তবে তিনি অবশ্যই সত্য বলেছেন। আমি তো তাঁর কাছে এর চেয়েও বড় বিষয়ে বিশ্বাস করি যে, তিনি আকাশ থেকে সকাল-সন্ধ্যায় যে খবর আনেন, তাতেও আমি বিশ্বাস করি। তিনি মানুষের কাছে মিথ্যা বলবেন না, আর আল্লাহর ব্যাপারে তো কখনোই না।’
ইসরা ও মিরাজ মহানবী (সা.)-এর রুহ ও শরীর জাগ্রত অবস্থায় হয়েছিল। এটিই মুসলমানদের বিশ্বাস। মিরাজে (সা.) এমন সব বড় নিদর্শন দেখেছেন, যা অন্য কোনো নবী দেখেননি। আসমানগুলো তাঁর পদধূলিতে সম্মানিত হয়েছে, যেমন পৃথিবী হয়েছিল। প্রতিটি আসমান থেকে মহান নবী ও ফেরেশতারা তাঁকে সম্মানের সঙ্গে বিদায় জানায়। আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, সম্ভবত সব নবীই আল্লাহর দরবার থেকে ফেরার সময় তাঁকে সম্মান জানাতে তাঁর সঙ্গে নেমে এসেছিলেন। মহানবী (সা.) জান্নাত ও জাহান্নাম দেখেছেন, জান্নাতের নদীগুলো দেখেছেন। তিনি জিবরাইল (আ.)-কে তাঁর আসল রূপে দেখেছেন যার ৬০০টি ডানা, প্রতিটি ডানা আকাশ জুড়ে বিস্তৃত। তিনি জিবরাইলকে দুবার এই রূপে দেখেছেন।
এসব দৃশ্য বিশ্বনবী (সা.)-কে আরও শক্ত, দৃঢ় ও অবিচল করে তোলে। ইসরা ও মিরাজের পর দাওয়াত ও জিহাদের পথে যত কষ্টই আসুক, তা তাঁর কাছে গ্রীষ্মের মেঘের মতো দ্রুত কেটে যেত। যখনই কষ্ট আসত, তিনি ইসরা ও মিরাজের কথা স্মরণ করতেন। নবী করিম (সা.) ইসরার রাতে যা দেখেছেন, আল্লাহ তা কোরআনে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং নবী (সা.) তাঁর সুন্নাহতে ব্যাখ্যা করেছেন। এতে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই।
মহান আল্লাহ আমাদের ওপর অনেক বড় নেয়ামত দিয়েছেন এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করে। আগের ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলোর ওপর যদি এই নামাজ ফরজ থাকত এবং তারা তা আদায় করত, তবে তারা ধ্বংস হতো না। মিরাজ থেকে বিশ্বনবী (সা.) আমাদের জন্য রহমত, শান্তি, ন্যায়বিচার, দয়া ও পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা নিয়ে ফিরে এসেছেন। তাঁর আনিত শরীয়ত জীবনের সব দিক ঠিক করে দেয়, যাতে কোনো জুলুম নেই, কোনো ত্রুটি নেই। মানবজাতি এর চেয়ে দয়ালু ও ন্যায়বান বিধান আর দেখেনি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি তো তোমাকে বিশ্বজগতের প্রতি কেবল রহমতরূপেই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া : ১০৭)।
মানুষ নিজের চোখেই এর সুফল দেখেছে। মুসলমানদের প্রভাব মানুষের জন্য কত সুন্দর, আর ইসলামের বিরোধীদের প্রভাব কত ক্ষতিকর তা ইতিহাস প্রমাণ করে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির জন্যে তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে।’ (সুরা আলে ইমরান : ১১০)।
মিরাজ থেকে ফিরে মহানবী (সা.)-এর অবস্থা কেমন ছিল? আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘তিনি মক্কায় ফিরে এলেন সম্পূর্ণ শান্ত, স্থির ও মর্যাদাবান অবস্থায়। সেই রাতে তিনি এমন সব নিদর্শন দেখেছিলেন, যা অন্য কেউ দেখলে হয়তো হতভম্ব হয়ে যেত। কিন্তু তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ স্থির ও দৃঢ়।’ পবিত্র সেই আল্লাহ, যিনি তাঁর প্রিয় নবীকে এই অনন্য মানবিক পূর্ণতা দান করেছেন।
(২৭-০৭-১৪৪৭ হিজরি মোতাবেক ১৬-০১-২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে মসজিদে নববিতে প্রদত্ত জুমার খুতবার সংক্ষেপিত অনুবাদ করেছেন জামিয়া ইসলামিয়া ইসলামবাগের মুহাদ্দিস- আবদুল কাইয়ুম শেখ)
