জানাজার নামাজে সুরা ফাতেহা পড়তে হয়?

হায়াত মাহমুদ জাকির

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং সাহাবিরা জানাজার নামাজে সুরা ফাতেহা পড়তেন না। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) সুরা ফাতেহা পড়েননি। বর্ণিত আছে, ‘আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) জানাজার নামাজে কোনো কেরাত পড়তেন না। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা : ১১৪৭১)। আলি ইবনে আবি তালিব জানাজার নামাজে কেরাত করতেন না। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা : ১১৪৭২)। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) জানাজার নামাজে কেরাত করতেন না। (মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক : ৬৪৩৮)। আবু হুরায়রা (রা.) বলতেন, জানাজা নামাজ হলো দোয়া। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা : ১১৪৭৩)।

ইবরাহিম নাখায়ি (রহ.) বলেন, জানাজার নামাজে কোনো কেরাত নেই। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা : ১১৪৭৪)। তিনি সাহাবিদের আমল থেকেই এ কথা বলেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) জানাজার নামাজে (কোরআন) পড়তেন না। (মুয়াত্তা মালিক : ৫২৩)। জানাজার নামাজ অবস্থার দিক থেকে নামাজ। যেমন এর জন্য নামাজের মতো অজু করা জরুরি। তাকবিরে তাহরিমা বলে নিয়ত করা জরুরি। কিবলামুখী হওয়া। সতর ঢাকা ইত্যাদি নামাজের মতো জরুরি। কিন্তু মৌলিকভাবে এটি নামাজ নয়। বরং এটি হলো মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা তথা ইসতেগফার। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা মৃতের জন্য জানাজার নামাজ পড়, তখন ইখলাসের সঙ্গে দোয়া কর। (ইবনে হিব্বান : ৩০৭৬)। আল্লামা ইবনুল কাইয়িম লিখেন, ‘উল্লেখ করা হয় যে, রাসুল (সা.) জানাজার নামাজে সুরা ফাতিহা পড়তে আদেশ দিয়েছেন। কিন্তু এ বক্তব্যের সনদ সঠিক নয়। (জাদুল মাআদ : ১/১৪১)। সুরা ফাতেহা না থাকার আরেকটি বড় কারণ হলো, জানাজার নামাজে কেরাত নেই। আল মুদাওয়ানাতুল কুবরা গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে যে, ‘আমি আব্দুর রহমান বিন কাসেম (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, ইমাম মালিক (রহ.)-এর মাজহাবে মৃতের জন্য কী পড়া হয়? তিনি বললেন, মৃতের জন্য দোয়া পড়া হয়। আমি বললাম, ইমাম মালিক (রহ.)-এর মতে কি জানাজার নামাজে কিরাত আছে? তিনি বললেন, না। (আল মুদাওয়ানুতল কুবরা : ১/১৫৮)। এ কারণে ইবনে ওহাব (রহ.) অনেক বড় বড় সাহাবি যেমন ওমর (রা.), আলি (রা.), আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রা.), ফুজালা বিন ওবাদা (রা.), আবু হুরায়রা (রা.), জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রা.), ওয়াসিলা বিন আসকা (রা.), এবং আকাবিরে তাবেয়িগণ যেমন কাসেম বিন মুহাম্মদ, সালেম বিন আব্দুল্লাহ, সাআদ বিন মুসাইয়িব, আতা বিন আবি রাবাহ, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ (রহ.) প্রমুখদের ব্যাপারে নকল করেন যে, তারা কেউ জানাজার নামাজে কেরাত পড়তেন না। আর ইমাম মালিক (রহ.)ও জানাজার নামাজে কেরাত পড়াকে আমলযোগ্য হওয়া অস্বীকার করেছেন। হ্যাঁ, তবে যেহেতু সুরা ফাতেহার আলোচ্য বিষয় আল্লাহতায়ালার হামদ এবং সানা এবং দোয়া সমৃদ্ধ। তাই যদি কেউ কেরাতের নিয়ত ছাড়া হামদণ্ডসানা এবং দোয়ার নিয়তে প্রথম তাকবিরের পর জানাজার নির্ধারিত দোয়ার বদলে সুরা ফাতেহা পড়ে নেয়, তাহলে এর সুযোগ আছে। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তাকে জানাজার নামাজে কেরাতের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলো। তখন তিনি জবাবে বলেন যে, রাসুল (সা.) আমাদের জন্য কোনো বিশেষ শব্দ বা কেরাত নির্ধারিত করেননি। এক বর্ণনায় এসেছে যে, কোনো বিশেষ দোয়া বা কেরাত নির্ধারিত করেননি। যখন ইমাম তাকবির বলবে, তখন তোমরাও তাকবির বলবে। আর উত্তম থেকে উত্তম বাক্য (সানা, দোয়া, ইত্যাদি) চাইলে এখতিয়ার করে নাও। অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, উত্তম থেকে উত্তম দোয়া ইখতিয়ার করে নাও। (বাদায়েউস সানায়ে : ১/৩১৩)।

জানাজার নামাজে সুরা ফাতেহা পড়া ঠিক নয়। জানাজার নামাজ মূলত নামাজ নয়। বরং অবস্থার দিক থেকে নামাজ, মূলত দোয়া। যদি নামাজই হতো, তাহলে জানাজায় কেরাত নেই কেন? জানাজায় রুকু সেজদা নেই কেন? সুতরাং বুঝা গেল এটি পূর্ণাঙ্গ নামাজ নয়।