সাহরি না খেলে কি রোজা হবে
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ইসলাম ডেস্ক

মাঝেমধ্যে কারও এমন হয়, সাহরির সময় ঘুম থেকে জেগে উঠতে পারেন না। পরে ঘুম ভাঙলে দ্বিধায় পড়ে যান এই ভেবে যে, সাহরি না খেয়ে রোজা রাখবেন কি না। সাহরি না খেয়ে রোজা রাখলে রোজা হবে কি না?
রোজার নিয়তে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও দাম্পত্য মিলন থেকে বিরত থাকা হলো রোজা। রোজার জন্য সাহরি খাওয়া শর্ত নয়। সাহরি না খেলেও রোজা হয়ে যাবে।
রোজা রাখার জন্য শেষ রাতে পানাহার বা খাওয়া-দাওয়া করাকে সাহরি বলা হয়। সাহরি খাওয়া সুন্নত। পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়, এক ঢোক পানি পান করলেও সাহরির সুন্নত আদায় হয়ে যায়। এটি সুন্নত হলেও প্রকৃতপক্ষে তাকওয়া অর্জন এবং আধ্যাত্মিক উন্নয়নের জন্য এর গুরুত্ব ও ফজিলত অনেক। আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাও, কেননা সাহরিতে বরকত রয়েছে।’ (বোখারি : ১৮০১)।
আমর ইবনুল আস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমাদের রোজা আর আহলে কিতাবদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরি খাওয়া আর না খাওয়া।’ (মুসলিম : ১০৯৬)।
সাহরিতে আছে বকরত। যারা সাহরি খায়, তাদের প্রতি আল্লাহ তাআলা রহমত নাজিল করেন। ফেরেশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘সাহরি খাওয়া বরকতপূর্ণ কাজ। সুতরাং তোমরা তা পরিত্যাগ করো না। এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সাহরি করো। কারণ যারা সাহরি খায়, আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’ (ইবনে হিব্বান : ৩৪৭৬)।
দেরিতে বা একদম শেষ সময়ে সাহরি খাওয়া মুস্তাহাব। সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার শঙ্কা হয়, ততটুকু দেরি করা যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সব নবীকে সময় হওয়ার পরপরই ইফতার তাড়াতাড়ি করতে এবং সাহরি শেষ সময়ে খেতে আদেশ করা হয়েছে।’ (আলমুজামুল আওসাত, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৫২৬)
