কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত
রায়হান রাশেদ
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলামের ফরজ বিধান হজ। হজ ইসলামের মৌলিক সংস্কৃতি। সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য হজ করা ফরজ। যে ঘরকে কেন্দ্র করে হজব্রত পালন করা হয়, তা পৃথিবীর প্রথম ঘর- কাবাঘর। সৃষ্টির সূচনার আত্মপ্রকাশ হয়েছে কাবার পথ ধরে। এ ঘরের নির্মাতা মহান আল্লাহ। কাবা বরকতের ছবি। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় মানব জাতির জন্য সর্ব প্রথম যে ঘর নির্মিত হয়েছে, তা বরকতময় ও বিশ্বজগতের দিশারী। এতে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন আছে। যেমন মাকামে ইবরাহিম। যে কেউ সেখানে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ। মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশে সে ঘরের হজ করা তার অবশ্য কর্তব্য। আর কেউ প্রত্যাখ্যান করলে সে জেনে রাখুক, নিশ্চয় আল্লাহ বিশ্বজগতের মুখাপেক্ষী নন।’ (সুরা আলে ইমরান : ৯৬-৯৭)
ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত। এর মধ্যে হজ অন্যতম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইসলামের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাঁচটি বিষয়ের ওপর। যথা- এক. আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাসক নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। দুই. যথাযথভাবে নামাজ আদায় করা। তিন. জাকাত প্রদান। চার. হজ এবং পাঁচ. রমজান মাসের রোজা পালন।’ (বোখারি : ৮)। হজ পুণ্য ও সফলতার আশিস। অর্জনের ঝুলি সওয়াবে টইটম্বুর করার মহা তিথি। হজের সওয়াবে ভরা মৌসুমে রবের দরবারে হাজিরা দিতে পারলে জীবন হয় সাফল্যমণ্ডিত। পাপ কাজ ও অযথা কথার বাহুল্য থেকে বিরত থাকতে পারলে হাজির জীবন হবে পাপ-পঙ্কিলতাহীন সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর মতো। প্রভাতে ফোটা প্রথম লাল গোলাপের মতো। বিশুদ্ধ মননের হাজির উপমা দিতে গিয়ে ইসলামের নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে হজ করল এবং হজ অবস্থায় কথা ও কাজে পাপ থেকে বিরত থাকল, সে হজ শেষে সেদিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে ঘরে ফিরবে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল।’ (বোখারি : ১৫২১)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘কবুল হজের একমাত্র প্রতিদান জান্নাত।’ (বোখারি : ১৭৭৩)। হজ মানুষের জীবনে দান করে সফলতা। করে মহিমান্বিত। জীবনের জমিনকে করে উর্বর। জীবনে বর্ষণ করে রহমতের বারিধারা। হজ রিজিকে সমৃদ্ধি এনে দেয়। দূর করে দেয় অভাব-অনটন। পার্থিব-অপার্থিব জীবনের এই পুরস্কার ব্যক্তিকে বেঁধে দেয় কাবার কালো গিলাফের সুতোয় সুতোয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা হজ ও ওমরাহ একত্রে পরপর পালন করো। হাপর যেমন লোহা ও সোনা-রুপার কলঙ্ক দূর করে, হজ এবং ওমরাহও তেমনি অভাব ও পাপ মুছে ফেলে। আর কবুল হজের একমাত্র প্রতিদান জান্নাত।’ (তিরমিজি : ৮১০)। হজ মানুষকে শিক্ষা দেয় ভাতৃত্ব বন্ধনের। সহমর্মিতা প্রদর্শনের। হজের সময়ে খোদার প্রেমে উপস্থিত সবার পোশাক এক ও অভিন্ন। তাদের লক্ষ্য আল্লাহকে খুশি করা। হজে আসা সবার পোশাক, ভাষা, উচ্চারণ এক। সবাই সমস্বরে আবেগমিশ্রিত কণ্ঠে হাজিরা দেয় এক বাক্যে- ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক।’
হজে আসারা আল্লাহর আমন্ত্রিত মেহমান। দয়া অনুগ্রহ ও ভালোবাসা দিয়ে আল্লাহ তাদের মেহমানদারি করেন। তাঁর দাওয়াতে সাড়াদানকারী ব্যক্তির জীবনকে তিনি সাফল্যমণ্ডিত করেন। তাদের জীবনের গোনাহ মাফ করেন। জীবনে বরকত দান করেন।
হাজির প্রতি আল্লাহ খুশি হন। তাকে মাফ করে দেন। রহমতের শীতল চাদরে আবৃত করেন। আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী হজব্রত পালন করতে পারলে ব্যক্তি লাভ করে ক্ষমার জীবন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তুমি যখন হজ সমাপনকারীর সাক্ষাৎ লাভ করবে, তখন তাকে সালাম দেবে। তার সঙ্গে মুসাফাহ করবে এবং তার কাছে পাপ মোচনের দোয়া চাইবে তার ঘরে প্রবেশের আগে। কারণ সে ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে এসেছে।’ (মুসনাদে আহমদ : ৫৩৭১)।
